সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পুরান সমস্যা নতুন বিতর্ক : সুবন্ধি কাটার বিকল্প নেই।।



আমার একটি স্ট্যাটাসের প্রক্ষিতে সাংবাদিক ভজহরি কুন্ডুর কমেন্টস দেখলাম। ধন্যবাদ ভজদা আপনার সুচিন্তিত মতামতের জন্য । তবে ভাল লেগেছে আপনি অন্যদের মত বাস্তবতা অস্বীকার করেননি । আপনার মনে থাকবার কথা সুবন্ধি সমস্যা নিয়ে প্রথম নিউজটি আপনার। এটি ২০০৯ সনের নভেম্বর মাসে দৈনিক সংবাদে প্রকাশিত হয়েছিল। সুবন্ধি বাধ কেন্দ্রিক সমস্যা সমাধানে সেদিনকার আপনার সুপারিশগুলোও নিশ্চয়ই ভুলে যাননি। যেদিন যে প্রেক্ষাপটে সুপারিশ করেছিলেন বাস্তবতা আজো সেরকম। দুব্যান্ডের স্লুইজ হলেও তা ৩০ কিমি লম্বা এবং প্রায় কোয়াটার কিমি প্রশস্ত খালের পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে কোনভাবেই যথার্থ নয় তা বুঝবার জন্য বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার নেই।সুবন্ধি সমস্যা সমাধানে জেলা প্রশাসকের গঠন করা তদন্ত কমিটি একাধিকার সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন ঐ কমিটির সদস্য হিসাবে আমিও ছিলাম। বিশ্ব ব্যাংকের সহযোগিতায় যে দু ব্যান্ডের স্লুইজ করার আগে বিশ্বব্যাংকের টেকনিক্যাল এডভাইজরি গ্রুপের সাথে কথা বলেছি এবং তারাও আমাদের সাথে সরেজমিনে সমস্যাটি দেখেছেন। আমি যতটা জানি, তাদের সুপারিশও পানি উন্নয়ন বোর্ড মানেননি। 
আমি ব্যক্তিগতভাবে সুবন্ধি বাধের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ। আমি আমার মত হাজারো মানুষের সমস্যা তুলে ধরেছি, আমি যুক্তি ও বিশেষজ্ঞর মতামত দিয়ে বলবার চেষ্টা করেছি সুবন্ধি বাধ কাটা ছাড়া সমস্যা সমাধানের কোন বিকল্প পথ নেই। আপনি বিকল্প সুপারিশ করতেই পারেন কিন্তু কেউ যদি বলেন বা লেখেন চাওড়া খালে কোন কচুরীপানা নেই, কোন সমস্যা নেই, এক জলকপাটে পায়রা নদীর মত পানির প্রবাহ বেড়ে গেছে তাহলে কি আপনি আমার সমস্যাটি বুঝতে পারেন না বলাটা অযৌক্তিক হবে, তাকে অহেতুক বিতর্ক বলবেন। 
বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন নদীগুলোর লবনাক্ততা বিষয়ে সাম্প্রতিক সময়ের স্টাডি বলছে, পায়রা বিষখালী এবং বলেশ্বর মোহনায় মার্চের প্রথম থেকে মে মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত লবনাক্ততা থাকলেও তালতলীর পর কিন্তু পায়রা নদীতে লবনাক্ততা সহনীয় মাত্রার এবং বগি বাজারের পর থেকে লবনাক্ততা খুব কম। আন্দারমানিক এবং রামনা চ্যানেলের লোন্দা পয়েন্ট পর্যন্ত মার্চের  প্রথম থেকে মে মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত লবনাক্ততা থাকলেও সুবন্ধি পয়েন্টে লবনাক্ততা নেই কালেভদ্রে দেখা গেলেও তা খুবই  সহনীয় মাত্রার । আপনার মনে থাকবারর কথা, সিডরের সময় সুবন্ধি খোলা ছিল।  সুবন্ধি ও জলেখার স্লুইজ থেকে আমতলী পর্যন্ত চাওড়া ও হলদিয়া খালের দুপাড়ে ২১টি কার্লভার্ট ও ইনলেটসহ উচু রাস্তা রয়েছে। যে কারনে সিডরে এসব এলাকায় উল্লেখযোগ্য কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। সুবন্ধি কাটার দাবী শুধু পানি নিষ্কাসনের জন্যই নয়, এ অঞ্চলের কৃষকের কৃষি পণ্য পরিবহন বাজারজাতকরণের জন্য সুবন্ধি উম্মুক্ত রাখা জরুরী। মৎস্য,পশু সম্পদ ও দৈনন্দিন জীবন যাপনের  কথা বাদই দিলাম সুবন্ধি খোলা থাকলে যেমনি কৃষি উৎপাদন বাড়ে তেমনি কৃষি পণ্য বিশেষ করে ধানের দাম  মন প্রতি ২০ টাকা বেশী থাকে। 

স্লুইজটি অবশ্যই অপরিকল্পিত। সমস্যা সমাধানে সুবন্ধি কাটার কোন বিকল্প নেই।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

হলুদ সাংবাদিকতা , যোশেফ পুলিৎজার এবং আমেরিকা-স্পেন যুদ্ধ

গত কয়েকদিন ধরে পিভিএতে সাংবাদিকতা, নাগরিক সাংবাদিকতা নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে। গ্রুপ সদস্যরাও অলোচনায় অংশগ্রহণ করছেন এবং অম্ল-মধূর বাক্য ব্যয় করছেন। কারো কারো আলোচনায় মনে হয় সাংবাদিকরাই নাটের গুরু। ভাবখানা এরকম-যত দোষ নন্দ ঘোষ। আর সাংবাদিকদের গালি দেয়ার জন্য এ যাবত সবচেয়ে বেশী ব্যবহার করা শব্দ যুগল হচ্ছে হলুদ সাংবাদিকতা। সাংবাদিকতা করছেন কিন্তু হলুদ সাংবাদিকতা শব্দ যুগল কখনো শোনেননি এরকম কেউ আছেন বলে আমার মনে হয় না । পেশাগত কাজে না শুনলেও সাংবাদিকদের গালি গালাজ করার জন্য রাজনৈতিক নেতা বা উচ্চ পর্যায়ে কর্মকর্তারা অহরহ হলুদ সাংবাদিকতা শব্দটি ব্যবহার করছেন আর তাদের গালি গালাজ শুনতে শুনতে আমার বিশ্বাস প্রত্যেক সাংবাদিকের এ শব্দটি মুখস্থ হয়ে গেছে । কিন্তু হলুদ সাংবাদিকতা কি, কেনই বা সংবাদপত্রে পরিভাষার উদ্ভব হলো আর কেনইবা এতো রং থাকতে হলুদকেই বেছে নেয়া হলো এমন কিছু প্রশ্নের উত্তর নিয়েই আজকের পিভিএর আয়োজন। হলুদ সাংবাদিকতা কি উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ভিত্তিহীন রোমাঞ্চকর সংবাদ পরিবেশন বা উপস্থাপনকেই হলুদ সাংবাদিকতা বলে । এ ধরনের সাংবাদিকতায় তথ্যানুসন্ধান না করেই দৃষ্টি...

ব্রাজিল সমর্থকদের কমিটি গঠন, এক বৃটিশ চালাক ভদ্রলোক ও পিভিএ'র পথচলা ।।

এক বাংলাদেশী নামকরা ডাক্তার লন্ডনে চাকরি না পেয়ে মানবতার সেবা এবং সহজ সরলভাবে জীবিকা নির্বাহ করার জন্য তাবু টানিয়ে অস্থায়ী ক্লিনিক খুলে বসল। তাঁবুর বাইরে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে লিখে দিল 'GET TREATMENT FOR £20 - IF NOT CURED GET BACK £100 বিফলে মূল্য ফেরত! এ দেখে এক ব্রিটিশ চালাক লোক চিন্তা করল একই সাথে বোকা বাঙালীকে জব্দ করা এবং ১০০ পাউন্ড ধান্ধা করার এই সুযোগ। একে তো ব্রিটিশ, তার উপর অতি বুদ্ধিমান ভাবুন একবার! যথারীতি ভদ্রলোক গিয়ে ডাক্তারকে বলল- আমার জিহ্বায় কোন কিছুর স্বাদ পাইনা, আমি কোন স্বাদ পরখ করতে পারিনা আমার চিকিৎসা করুন। ডাক্তার বুঝতে পেরে তার এসিস্ট্যান্টকে হাঁক দিয়ে বলল- একে ৪২০ নম্বর বোতল থেকে তিন ফোটা খাইয়ে দাও। ঔষধ খাওয়ানোর পর ভদ্রলোক চেঁচিয়ে উঠল- এটা তো কেরোসিন! ডাক্তার: গুড, আপনার জিহ্বা কাজ করা শুরু করেছে, ২০ পাউন্ড দিন। ২০ পাউন্ড হারিয়ে অনেক ভেবেচিন্তে ভদ্রলোক দ্বিতীয় দিন আবার আসল ভদ্রলোক : আমার স্মৃতি কাজ করছেনা, আপনি আমার চিকিৎসা করুন।এসিস্ট্যান্টকে হাঁক দিয়ে বলল- একে ৪২০ নম্বর বোতল থেকে চার ফোটা খাইয়ে দাও। খাওয়ানোর পর ভদ্রলোক রেগেমেগে একাকার। ব...

বৈষ্ণব পদাবলী,ভন্ড মজিদ-কুবের ও একজন সুলতান আহমেদ

১৯৮৬ সন। আমি তখন বরগুনা সরকারী কলেজের ছাত্র। রাজনৈতিক কারনে বিকালে আমাদের আড্ডা ছিল বরগুনা বাজার রোডের আবদুল আলিম হিমু সম্পাদিত সাপ্তাহিক বরগুনা কন্ঠের বিপরিতে সাজুর চায়ের দোকানে। অধিকাংশ সময়ে আড্ডার মধ্যমনি ছিল জাসদ নেতা সালাম আলমাস চৌধুরী। এক সময়ে তিনি আমতলী কলেজের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। ৮৬ সনের জানুয়ারী কি ফ্রেব্রুয়ারী মাস,শীতের সন্ধ্যায় আমরা সাজুর চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছি। অপরিচিত এক ভদ্রলোক ডুকে সালাম দিয়ে আমাদের পাশের টেবিলে বসলেন। খুবই সাধারণ পোষাক পরিচ্ছেদ, হাতে একটি ডায়রী এবং বলার স্টাইল ও উচ্চারণ অনেকটাই স্থানীয় সাদা মাটা । প্রথম দেখায় খুব একটা ভাল না লাগলেও যখন শুনলাম তিনি বরগুনা আলীয়া মাদ্রাসায় বাংলা বিভাগের প্রভাষক এবং তার বাড়ি পটুয়াখালী সদর উপজেলার মরিচবুনিয়া ইউনিয়নে, তখন হঠাৎ করেই তার প্রতি একটা ভাললাগা তৈরী হয়ে গেল। এরপর মাঝেই মাঝেই তিনি আমাদের আড্ডায় আসতেন এবং দিনে দিনে তিনিও হয়ে উঠলেন আমাদের আড্ডার অন্যতম আকর্ষন। তার সহজ সরল বলার স্টাইল হাসতে হাসতে কঠিন কথা বলার কৌশল এবং সাহসীকতা আমাদেরকে খুব আকৃষ্ট করত। এরপর অনেক দিন তারসাথে আর যোগা...