সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আমতলীর শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা, একজন মেডিকেল ছাত্রের প্রস্তাবনা ও সমসাময়ীক বাস্তবতা।।

Shamim Mohammad Rasel স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের একজন ছাত্র। ব্যক্তিগতভাবে আমার সাথে পরিচয় নেই। Generation gap, Communication না থাকা এবং উচ্চ শিক্ষার জন্য আমতলীর বাইরে চলে যাওয়ায় এ প্রজম্মের অনেক প্রতিভাবান তরুনদের আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। তবে মিডিয়ার মানুষ হিসাবে সব সময়ই চেষ্টা করেছি আমতলীর সোনার ছেলে-মেয়েদের সফলতার গল্প তুলে আনতে। People's Voice of Amtali নিষ্ঠার সাথে সম্প্রতি এ কাজটি শুরু করেছে। গত কয়েকদিনে এই পেজের অন্যতম এডমিন আবদুর রহমান সালেহ খুব দক্ষতার সাথে কয়েকজনের গল্প তুলে ধরেছেন। গতকাল পিভিএ তে আমতলীর মেধাবী শিক্ষার্থীদের মেডিকেল, বুয়েটসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিযোগিতামুলক ভর্তি পরীক্ষায় সফল হওয়ার জন্য পরামর্শসহ সার্বিক সহযোগিতা করার Shamim Mohammad Rasel এর বিভিন্ন প্রস্তাবনা দেখে আমি সত্যিই অভিভূত। তার পোস্ট এবং অন্যদের কমেন্টস দেখে আমি খুবই আশান্বিত হয়েছি। এমনিতেই আমি খুব আশাবাদি মানুষ। আমতলীর রাজনীতি, শিক্ষা, সাংবাদিকতা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া এবং সামাজিক সমস্যা দেখে আমি অন্যদের মত কখনোই হতাশ হইনি। উপরন্তু সুবন্ধি বাধের কারনে জলাবদ্ধতা, জেলা ও সংসদীয় আসন নিয়ে আন্দোলনে নানাবিধ বিভাজন স্বত্বেও আমরা এখনো লেগে আছি। তবে আমার খুব ভাল লাগছে, যারা দেশে এবং দেশের বাইরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করছ ,নিজের ভবিষ্যত জীবন এবং Career তৈরী নিয়ে ব্যস্ততার মধ্যেও আমতলীর শিক্ষা ব্যবস্থা এবং উচ্চ শিক্ষায় আমতলীর শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নেয়ার বিষয়ে তাদের ইতিবাচক ভাবনা দেখে। আমি খুবই অভিভূত এবং অনুপ্রাণিত। তবে শুধু আলোচনা নয়, প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে শুরু করা। তরুনরা চিন্তায় আধুনিক এবং Dynamic বলে রাতারাতি সব কিছু করতে চায় এবং করেও ফেলে। কিন্তু ব্যক্তি এবং পরিবার বা ছোট পরিসরে এটা সম্ভব হলেও বৃহৎ পরিসরে এত ব্যাপকভাবে কাজ করা অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হয় না। তারপরেও তোমাদের সকল উদ্যোগ এবং প্রচেষ্টার সাথে আমি আছি। তবে আমার প্রস্তাব হচ্ছে :
  1. প্রাথমিকভাবে একটি অনলাইন প্লাটফর্ম করে দেশে এবং দেশের বাইরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যারা লেখাপড়া করছে তাদেরকে Connect করা।
  2. আমতলী থেকে যারা এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষা বা মেডিকেল, বুয়েটসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিবে তাদেরকে Connect করা।
  3. ক্যাটাগরী ভিত্তিক দায়িত্ব দেয়া যেমন মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষার্থীদের জন্য সামীম বা সরোজ ল' এর জন্য রিমন এবং নিয়মিত তাদের সাথে যোগাযোগ রাখা, কোথায় কোচিং করছে, কি পড়ছে,ট্রাকে আছে কিনা। প্রয়োজনে ফোন করে বা দেখা করে উদ্ধুদ্ধ করা,অগ্রগতি জানা।
  4. ভর্তি পরীক্ষার যাবতীয় বিষয়ে পরামর্শ দেয়া।
  5. এসএসসি ও এইচএসসি শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে আমতলীতে মাঝে মাঝে বিভিন্ন প্রোগ্রাম করা, জিপিএ -৫ বা ভাল ফলাফলের জন্য পুরস্কৃত করা, তাদের সামনে শাহরিয়ার, তাইমুর, অপুসহ আমতলীর সফল ব্যক্তিদের গল্প তুলে ধরে অনুপ্রাণিত করা, স্বপ্ন দেখানো।
আমি ব্যক্তিগতভাবে এটাও মনে করি এসব কোন কিছু করার দরকার নেই , তোমরা শুধু তাদেরকে স্বপ্ন দেখাও, চোখের সামনে vision টা তুলে ধর। আমি বিশ্বাস করি, তোমাদের একটা ফোন, একটু খোজ খবর, একটু পরামর্শ একজন শিক্ষার্থীর জীবন বদলে দিতে পারে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

মামনির জন্মদিন: স্বপ্নের চেয়েও বড় হও।

১৯২৮ সন। পন্ডিত জহরলাল নেহেরু তখন এলাহবাদে। আর ১০ বছরের ইন্দিরা গান্ধী থাকেন হিমালয়ের কোলঘেসে মূসৌরী শহরে। যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম চিঠি। নেহেরু প্রায়ই মেয়েকে চিঠিতে প্রকৃতি, পৃথিবী ও মানব সভ্যতার বিকাশসহ ভারতের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে লিখতেন। ১৯২৯ সনের নভেম্বর মাসে এসব চিঠি নিয়ে মা-মনিকে-বাবা নামে একটি বই প্রকাশিত হলে তা ইতিহাসের অংশ হয়ে যায় । বর্তমানে এটি ভারতের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে এবং রেফারেন্স বুক হিসাবে পড়ানো হয়।কুটনৈ তিক ফারুক চৌধুরীর কুটনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে লেখা প্রিয় ফারজানাও আমাদের ভ্রমন সাহিত্য ও ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে। প্রত্যেক পিতাই দূরে থাকা সন্তানদের প্রতি কিছু পরামর্শ, কিছু নির্দেশনা দিয়ে থাকে। আগে চিঠি লিখত,এখন তার জায়গায় ইমেইল, মোবাইল বা সোশ্যাল মিডিয়া ।এজন্য নির্দেশনাটাও বেশী । এটা কর, ওটা কর না । সন্ধ্যার আগেই বাসায় বা হলে ফের। রাত কর না। রাজনীতিতে জড়িও না, কোটা সংস্কার আন্দোলন কিংবা নিরাপদ সড়কের আন্দোলনে যেও না। কারন অভিভাবকরা সব সময় সন্তানকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকে, মেয়ে হলে তো কথাই নেই । সন্তানরা হয়ত ভাবে, আমরা বড় হয়েছি এত ট...

সুবন্ধি বাধ: লাখো মানুষের মরণ ফাদ।।

সুবন্ধি বাধ চাওড়া, হলদিয়া,  আমতলী সদর ও আমতলী পৌরসভার প্রায় ৮০ হাজার মানুষের মরণ ফাদে পরিনত হয়েছে। আমরা যারা এ খালের দুপাড়ে বসবাস করি তারা জানি পানির প্রবাহ না থাকায় কচুরীপানা পচে পানি নষ্ট হয়ে গেছে।  কৃষি কাজে এ খালের পানি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থবির হয়ে গেছে। হলদিয়া গ্রামের  এক অংশ, চিলা ও চাওড়া চলাভাংগা গ্রামের কৃষকরা পরিবহন করতে না পারায় আউশ চাষ বন্ধ করে দিয়েছে। গৃহস্তালি কাজেও এ খালের পানি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এমনকি গবাদি পশুও এ খালের পানি পান করছে না। দুর্গন্ধে খালের পাশ দিয়ে হাটা যায় না। মশা ও সাপের  উপদ্রব এবং ঘরে ঘরে চর্ম রোগের প্রাদুর্ভাব জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকিতে রয়েছে। এ খালে মাছ ধরে প্রায় ৫শ মানুষ জীবিকা নির্বাহ করত তাদের জীবন জীবিকা আজ ঝুকির মুখে পরেছে। খালে পানির প্রবাহ না থাকলে এ সমস্যা সমাধান করা যাবে না আর পানির প্রবাহ নিশ্চিত করার একমাত্র উপায় সুবন্ধি বাধ কেটে দেয়া। কিন্ত একটি মহল গুটি কয়েক ব্যক্তির স্বার্থে ৮০ হাজার মানুষের জীবন জীবিকাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন,হীন স্বার্থে খাল কাটার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অথচ তারা ...

স্টিফেন হকিংস’র প্রেমিকা ও PVA এর সফলতা -ব্যর্থতার গল্প ।।

মাত্র ৩৮ ঘন্টা আগে পৃথিবীর সকল মায়া ত্যাগ করে চির বিদায় নিলেন বিখ্যাত পদার্থ বিজ্ঞানী A Brief History of Time বইয়ের লেখক Stephen William Hawking । ১৯৬৪ সন, হকিংস ক্যামব্রীজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। বোনের বান্ধবী Jane Wilde কে প্রথম দেখাতেই প্রেমে পরে গেলেন । একেই বলে Love at the first sight । আর কি প্রেম, একদম সরাসরি ইনগেজমেন্ট এবং ১৯৬৫ সনে বিয়ে । তখনই হকিংস এর শরীরে motor neurone disease ধীরে ধীরে বাড়ছে। স্ত্রীর ভালবাসা আর সেবা পেয়ে হকিংস শুধু সুস্থ্য হয়ে উঠলেন না নতুন উদ্যমে শুরু করলেন লেখাপড়া আর কাজ । মিডিয়ার সামনে বলেই ফেললেন Jane Wilde এর সাথে প্রণয়ই আমাকে কিছুটা বাচতে এবং দুনিয়াটা ঝাকুনি দিতে শিখিয়েছে । People's Voice of Amtali- PVA শুরুতেই একটি চ্যালেঞ্জের মুখে পরেছে। বরগুনা জেলা প্রশাসন, সাংবাদিক ও বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের প্রচেষ্টায় সমস্যা তুলে আনা, তাৎক্ষনিক সমস্যা সমাধান করে Citizen's Voice-Barguna শুধু জনপ্রিয়তাই অর্জন করেনি Citizen's Journalism এর ক্ষেত্রে একটি role model হয়ে উঠেছে । এটি PVA এর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কারন সবাই CVB এর মত PVA ...