সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

দার্শনিক সক্রেটিস, চালাক নিন্দুক ও Tripple Filter Test.


সক্রেটিস প্রাচীন গ্রিসে সবচেয়ে জ্ঞানী মানুষদের একজন। সক্রেটিস একদিন ঘরের বাইরে বসে আছেন । এক ভদ্রলোক তার সাথে দেখা করতে এসে তাকে বললেন আপনার বন্ধু সম্পর্কে কি শুনেছি জানেন ? এক মিনিট দাড়ান, বলেই সক্রেটিস তাকে বললেন আমার বন্ধু সম্পর্কে কিছু বলার আগে আপনার একটা পরীক্ষা নিতে চাই।এটার
নাম Tripple Filter Test বা তিন ছাকুনি পরীক্ষা। আপনার কথাগুলো ছাকুনি দিয়ে ছেকে দেখতে চাই।
প্রথম ছাকুনি সত্য।
আপনি কি পুরোপুরি নিশ্চিত আপনি আমাকে যা বলতে যাচ্ছেন তা আসলেই সত্য। ভদ্রলোক বিব্রত হয়ে আমতা আমতা করে বললেন, না আমি কেবল তা শুনেছি কিন্তু ----। তাহলে আপনি নিশ্চিত নন যা বলতে এসেছেন তা আসলেই সত্য কিনা।
তাহলে এবার আসা যাক দ্বিতীয় পরীক্ষায় যার নাম ভাল।
আপনি আমার বন্ধু সম্পর্কে যা বলবেন তা কি ভাল ? জবাবে ভদ্রলোক বললেন, না আদৌ ভাল না বরং আমি উল্টাটা বলব। সক্রেটিস তাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন আপনি আমার বন্ধু সম্পর্কে আমার কাছে খারাপ কথা বলবেন অথচ আপনি জানেন না সেটি সত্য কি না।
তারপরেও আপনি আমার পরীক্ষায় পাশ করতে পারেন যদি তৃতীয় পরীক্ষা উত্তীর্ণ হন। কারন তৃতীয় পরীক্ষাটা এখনো বাকী আর তৃতীয় পরীক্ষার নাম উপকারী
আপনি যে কথা আমার কাছে বলতে এসেছেন সেটা কি আমার কোন উপকারে আসবে? এবার ভদ্রলোক হা করে তাকিয়ে বললেন, না কোন উপকারেই আসবে না।
সক্রেটিস সর্বশেষে তাকে বললেন আপনি আমার বন্ধু সম্পর্কে আমাকে যা বলতে এসেছেন তা যদি সত্যি না হয়, ভাল না হয় এবং উপকারী না হয় তাহলে কেন তা বলত চাইছেন?
মনে রাখবেন অপ্রয়োজনীয় কথা এড়িয়ে যেতে পারলে জীবনে অনেক সংঘাত, সংঘর্ষ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।জীবন হয়ে উঠতে পারে আরো অনেক সুন্দর, আরো অনেক শান্তিময়।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

হলুদ সাংবাদিকতা , যোশেফ পুলিৎজার এবং আমেরিকা-স্পেন যুদ্ধ

গত কয়েকদিন ধরে পিভিএতে সাংবাদিকতা, নাগরিক সাংবাদিকতা নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে। গ্রুপ সদস্যরাও অলোচনায় অংশগ্রহণ করছেন এবং অম্ল-মধূর বাক্য ব্যয় করছেন। কারো কারো আলোচনায় মনে হয় সাংবাদিকরাই নাটের গুরু। ভাবখানা এরকম-যত দোষ নন্দ ঘোষ। আর সাংবাদিকদের গালি দেয়ার জন্য এ যাবত সবচেয়ে বেশী ব্যবহার করা শব্দ যুগল হচ্ছে হলুদ সাংবাদিকতা। সাংবাদিকতা করছেন কিন্তু হলুদ সাংবাদিকতা শব্দ যুগল কখনো শোনেননি এরকম কেউ আছেন বলে আমার মনে হয় না । পেশাগত কাজে না শুনলেও সাংবাদিকদের গালি গালাজ করার জন্য রাজনৈতিক নেতা বা উচ্চ পর্যায়ে কর্মকর্তারা অহরহ হলুদ সাংবাদিকতা শব্দটি ব্যবহার করছেন আর তাদের গালি গালাজ শুনতে শুনতে আমার বিশ্বাস প্রত্যেক সাংবাদিকের এ শব্দটি মুখস্থ হয়ে গেছে । কিন্তু হলুদ সাংবাদিকতা কি, কেনই বা সংবাদপত্রে পরিভাষার উদ্ভব হলো আর কেনইবা এতো রং থাকতে হলুদকেই বেছে নেয়া হলো এমন কিছু প্রশ্নের উত্তর নিয়েই আজকের পিভিএর আয়োজন। হলুদ সাংবাদিকতা কি উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ভিত্তিহীন রোমাঞ্চকর সংবাদ পরিবেশন বা উপস্থাপনকেই হলুদ সাংবাদিকতা বলে । এ ধরনের সাংবাদিকতায় তথ্যানুসন্ধান না করেই দৃষ্টি...

ব্রাজিল সমর্থকদের কমিটি গঠন, এক বৃটিশ চালাক ভদ্রলোক ও পিভিএ'র পথচলা ।।

এক বাংলাদেশী নামকরা ডাক্তার লন্ডনে চাকরি না পেয়ে মানবতার সেবা এবং সহজ সরলভাবে জীবিকা নির্বাহ করার জন্য তাবু টানিয়ে অস্থায়ী ক্লিনিক খুলে বসল। তাঁবুর বাইরে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে লিখে দিল 'GET TREATMENT FOR £20 - IF NOT CURED GET BACK £100 বিফলে মূল্য ফেরত! এ দেখে এক ব্রিটিশ চালাক লোক চিন্তা করল একই সাথে বোকা বাঙালীকে জব্দ করা এবং ১০০ পাউন্ড ধান্ধা করার এই সুযোগ। একে তো ব্রিটিশ, তার উপর অতি বুদ্ধিমান ভাবুন একবার! যথারীতি ভদ্রলোক গিয়ে ডাক্তারকে বলল- আমার জিহ্বায় কোন কিছুর স্বাদ পাইনা, আমি কোন স্বাদ পরখ করতে পারিনা আমার চিকিৎসা করুন। ডাক্তার বুঝতে পেরে তার এসিস্ট্যান্টকে হাঁক দিয়ে বলল- একে ৪২০ নম্বর বোতল থেকে তিন ফোটা খাইয়ে দাও। ঔষধ খাওয়ানোর পর ভদ্রলোক চেঁচিয়ে উঠল- এটা তো কেরোসিন! ডাক্তার: গুড, আপনার জিহ্বা কাজ করা শুরু করেছে, ২০ পাউন্ড দিন। ২০ পাউন্ড হারিয়ে অনেক ভেবেচিন্তে ভদ্রলোক দ্বিতীয় দিন আবার আসল ভদ্রলোক : আমার স্মৃতি কাজ করছেনা, আপনি আমার চিকিৎসা করুন।এসিস্ট্যান্টকে হাঁক দিয়ে বলল- একে ৪২০ নম্বর বোতল থেকে চার ফোটা খাইয়ে দাও। খাওয়ানোর পর ভদ্রলোক রেগেমেগে একাকার। ব...

বৈষ্ণব পদাবলী,ভন্ড মজিদ-কুবের ও একজন সুলতান আহমেদ

১৯৮৬ সন। আমি তখন বরগুনা সরকারী কলেজের ছাত্র। রাজনৈতিক কারনে বিকালে আমাদের আড্ডা ছিল বরগুনা বাজার রোডের আবদুল আলিম হিমু সম্পাদিত সাপ্তাহিক বরগুনা কন্ঠের বিপরিতে সাজুর চায়ের দোকানে। অধিকাংশ সময়ে আড্ডার মধ্যমনি ছিল জাসদ নেতা সালাম আলমাস চৌধুরী। এক সময়ে তিনি আমতলী কলেজের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। ৮৬ সনের জানুয়ারী কি ফ্রেব্রুয়ারী মাস,শীতের সন্ধ্যায় আমরা সাজুর চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছি। অপরিচিত এক ভদ্রলোক ডুকে সালাম দিয়ে আমাদের পাশের টেবিলে বসলেন। খুবই সাধারণ পোষাক পরিচ্ছেদ, হাতে একটি ডায়রী এবং বলার স্টাইল ও উচ্চারণ অনেকটাই স্থানীয় সাদা মাটা । প্রথম দেখায় খুব একটা ভাল না লাগলেও যখন শুনলাম তিনি বরগুনা আলীয়া মাদ্রাসায় বাংলা বিভাগের প্রভাষক এবং তার বাড়ি পটুয়াখালী সদর উপজেলার মরিচবুনিয়া ইউনিয়নে, তখন হঠাৎ করেই তার প্রতি একটা ভাললাগা তৈরী হয়ে গেল। এরপর মাঝেই মাঝেই তিনি আমাদের আড্ডায় আসতেন এবং দিনে দিনে তিনিও হয়ে উঠলেন আমাদের আড্ডার অন্যতম আকর্ষন। তার সহজ সরল বলার স্টাইল হাসতে হাসতে কঠিন কথা বলার কৌশল এবং সাহসীকতা আমাদেরকে খুব আকৃষ্ট করত। এরপর অনেক দিন তারসাথে আর যোগা...