সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

একটি কাঠের ব্রীজ,সম্মিলিত প্রচেষ্টার অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত ও স্বপ্নের মেলবন্ধন ।


স্বপ্ন দেখা এবং দেখানো অনেক বড় কাজ। আমি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখার কথা বলছি না, ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এপিজে আব্দুল কালামের যে স্বপ্ন ঘুমোতে দেয় না তার কথা বলছি। প্রত্যেকটি মানুষ নিজেকে নিয়ে, সমাজ ও দেশকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে, অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে অন্যকে স্বপ্ন দেখায়। এরকমই একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আমতলী সদর ইউনিয়নের নাচনা পাড়া গ্রামবাসী। গ্রামের বাসিন্ধারা সম্মিলিতভাবে শিংখালী খালের উপর ১১০ ফুট একটি কাঠের ব্রীজ নির্মান করে দুপাড়ের মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরী করার এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
দল,মত এবং ধর্ম নির্বিশেষে মানুষ যখন ক্রমশ আত্মকেন্ত্রিক হয়ে পরছে,সরকারী-বেসরকারী উন্নয়ন বরাদ্দ এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার,স্বচ্ছতা এবং জনঅংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, ঠিক সেই সময় গ্রামের কতিপয় একেবারেই সাধারণ মানুষ চলমান স্রােতের বিপরীতে নিজেরা স্বপ্ন দেখে মহৎ কিছু করার উদ্যোগ নিয়েছেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং পিভিএ’র পক্ষ থেকে কালাম মেম্বর, হিরন মৃধা, আতাহার চৌকিদার এবং আবদুল মালেকসহ যারা শ্রম দিয়েছেন, অর্থ ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেছেন -সকল উদ্যোক্তাদের স্বাগত জানাই,অভিনন্দন জানাই ।

এটি বাজেট এবং প্রকল্প বিবেচনায় ছোট একটি উদ্যোগ হলেও সমকালীন আর্থ-সামজিক এবং রাজনৈতিক বাস্তবতায় নি:সন্দেহে এটি একটি ভিন্ন তাৎপর্য বহন করে । আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত অন্য মানুষকে স্বপ্ন দেখাবে, আমতলীর উন্নয়নে এমনকি দেশের জন্য ইতিবাচক কিছু করতে অনুপ্রাণিত করবে। আমরা যারা বিচ্ছিন্নভাবে, ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাষ্ট্র ও সমাজ নিয়ে ভাবি, স্বপ্ন দেখি, তাদের পরস্পরকে গ্রোথিত করে, যুক্ত করে কাঠের ব্রীজের মত স্বপ্নের একটি মেলবন্ধন তৈরী করবে ।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

হলুদ সাংবাদিকতা , যোশেফ পুলিৎজার এবং আমেরিকা-স্পেন যুদ্ধ

গত কয়েকদিন ধরে পিভিএতে সাংবাদিকতা, নাগরিক সাংবাদিকতা নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে। গ্রুপ সদস্যরাও অলোচনায় অংশগ্রহণ করছেন এবং অম্ল-মধূর বাক্য ব্যয় করছেন। কারো কারো আলোচনায় মনে হয় সাংবাদিকরাই নাটের গুরু। ভাবখানা এরকম-যত দোষ নন্দ ঘোষ। আর সাংবাদিকদের গালি দেয়ার জন্য এ যাবত সবচেয়ে বেশী ব্যবহার করা শব্দ যুগল হচ্ছে হলুদ সাংবাদিকতা। সাংবাদিকতা করছেন কিন্তু হলুদ সাংবাদিকতা শব্দ যুগল কখনো শোনেননি এরকম কেউ আছেন বলে আমার মনে হয় না । পেশাগত কাজে না শুনলেও সাংবাদিকদের গালি গালাজ করার জন্য রাজনৈতিক নেতা বা উচ্চ পর্যায়ে কর্মকর্তারা অহরহ হলুদ সাংবাদিকতা শব্দটি ব্যবহার করছেন আর তাদের গালি গালাজ শুনতে শুনতে আমার বিশ্বাস প্রত্যেক সাংবাদিকের এ শব্দটি মুখস্থ হয়ে গেছে । কিন্তু হলুদ সাংবাদিকতা কি, কেনই বা সংবাদপত্রে পরিভাষার উদ্ভব হলো আর কেনইবা এতো রং থাকতে হলুদকেই বেছে নেয়া হলো এমন কিছু প্রশ্নের উত্তর নিয়েই আজকের পিভিএর আয়োজন। হলুদ সাংবাদিকতা কি উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ভিত্তিহীন রোমাঞ্চকর সংবাদ পরিবেশন বা উপস্থাপনকেই হলুদ সাংবাদিকতা বলে । এ ধরনের সাংবাদিকতায় তথ্যানুসন্ধান না করেই দৃষ্টি...

ব্রাজিল সমর্থকদের কমিটি গঠন, এক বৃটিশ চালাক ভদ্রলোক ও পিভিএ'র পথচলা ।।

এক বাংলাদেশী নামকরা ডাক্তার লন্ডনে চাকরি না পেয়ে মানবতার সেবা এবং সহজ সরলভাবে জীবিকা নির্বাহ করার জন্য তাবু টানিয়ে অস্থায়ী ক্লিনিক খুলে বসল। তাঁবুর বাইরে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে লিখে দিল 'GET TREATMENT FOR £20 - IF NOT CURED GET BACK £100 বিফলে মূল্য ফেরত! এ দেখে এক ব্রিটিশ চালাক লোক চিন্তা করল একই সাথে বোকা বাঙালীকে জব্দ করা এবং ১০০ পাউন্ড ধান্ধা করার এই সুযোগ। একে তো ব্রিটিশ, তার উপর অতি বুদ্ধিমান ভাবুন একবার! যথারীতি ভদ্রলোক গিয়ে ডাক্তারকে বলল- আমার জিহ্বায় কোন কিছুর স্বাদ পাইনা, আমি কোন স্বাদ পরখ করতে পারিনা আমার চিকিৎসা করুন। ডাক্তার বুঝতে পেরে তার এসিস্ট্যান্টকে হাঁক দিয়ে বলল- একে ৪২০ নম্বর বোতল থেকে তিন ফোটা খাইয়ে দাও। ঔষধ খাওয়ানোর পর ভদ্রলোক চেঁচিয়ে উঠল- এটা তো কেরোসিন! ডাক্তার: গুড, আপনার জিহ্বা কাজ করা শুরু করেছে, ২০ পাউন্ড দিন। ২০ পাউন্ড হারিয়ে অনেক ভেবেচিন্তে ভদ্রলোক দ্বিতীয় দিন আবার আসল ভদ্রলোক : আমার স্মৃতি কাজ করছেনা, আপনি আমার চিকিৎসা করুন।এসিস্ট্যান্টকে হাঁক দিয়ে বলল- একে ৪২০ নম্বর বোতল থেকে চার ফোটা খাইয়ে দাও। খাওয়ানোর পর ভদ্রলোক রেগেমেগে একাকার। ব...

বৈষ্ণব পদাবলী,ভন্ড মজিদ-কুবের ও একজন সুলতান আহমেদ

১৯৮৬ সন। আমি তখন বরগুনা সরকারী কলেজের ছাত্র। রাজনৈতিক কারনে বিকালে আমাদের আড্ডা ছিল বরগুনা বাজার রোডের আবদুল আলিম হিমু সম্পাদিত সাপ্তাহিক বরগুনা কন্ঠের বিপরিতে সাজুর চায়ের দোকানে। অধিকাংশ সময়ে আড্ডার মধ্যমনি ছিল জাসদ নেতা সালাম আলমাস চৌধুরী। এক সময়ে তিনি আমতলী কলেজের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। ৮৬ সনের জানুয়ারী কি ফ্রেব্রুয়ারী মাস,শীতের সন্ধ্যায় আমরা সাজুর চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছি। অপরিচিত এক ভদ্রলোক ডুকে সালাম দিয়ে আমাদের পাশের টেবিলে বসলেন। খুবই সাধারণ পোষাক পরিচ্ছেদ, হাতে একটি ডায়রী এবং বলার স্টাইল ও উচ্চারণ অনেকটাই স্থানীয় সাদা মাটা । প্রথম দেখায় খুব একটা ভাল না লাগলেও যখন শুনলাম তিনি বরগুনা আলীয়া মাদ্রাসায় বাংলা বিভাগের প্রভাষক এবং তার বাড়ি পটুয়াখালী সদর উপজেলার মরিচবুনিয়া ইউনিয়নে, তখন হঠাৎ করেই তার প্রতি একটা ভাললাগা তৈরী হয়ে গেল। এরপর মাঝেই মাঝেই তিনি আমাদের আড্ডায় আসতেন এবং দিনে দিনে তিনিও হয়ে উঠলেন আমাদের আড্ডার অন্যতম আকর্ষন। তার সহজ সরল বলার স্টাইল হাসতে হাসতে কঠিন কথা বলার কৌশল এবং সাহসীকতা আমাদেরকে খুব আকৃষ্ট করত। এরপর অনেক দিন তারসাথে আর যোগা...