সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ভিন্ন চোখে একজন গোলাম সরোয়ার টুকু।

 

গোলাম সরোয়ার টুকু বরগুনা জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, একজন রাজনীতিবিদ। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বরগুনা সরকারী কলেজ ছাত্র সংসদের দুবার ভিপি,জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাথে সম্পৃক্ততা, জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালনসহ তৃণমূল পর্যায়ে বিভিন্ন সভা সমাবেশে অসাধারণ বক্তৃতার কারনে এ জনপদের সকলের কাছেই তার পরিচিতি একজন ত্যাগী রাজনৈতিক নেতা হিসাবে। ২০০১ এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী প্রচারণায় টুকুর কর্মতৎপরতা, অসাধারণ বক্তৃতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতা এ অঞ্চলের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন দর্শন নিয়ে টুকু মনে -প্রাণে,চিন্তা- দর্শনে সার্বক্ষনিক একজন Political activist. 
রাজনীতি জীবনের একটি অংশ। রাজনৈতিক জীবনে প্রত্যেকেরই একটি লক্ষ্য থাকে একটি স্বপ্ন থাকে। তার সে স্বপ্ন- বাস্তবতা,সফলতা- ব্যর্থতা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক, দলীয় নেতৃবৃন্দ ও সহযোদ্ধারা বিচার বিশ্লেষণ করবেন। আমার আজকের আলোচনার প্রেক্ষিত সেটি নয়,ভিন্ন- Look at the different perspective.
আমরা দুজন একই বয়সী। একই সময়ে ভিন্ন পরিবেশে বেড়ে উঠলেও চিন্তা ভাবনায় অনেকটাই মিল ছিল। এসএসসি পরবর্তী সময়ে একই কলেজে লেখাপড়া, একই ছাদের তলে বসবাস, একই বিছানায় রাত্রিযাপন ও একই টেবিলে বই খোলা রেখে যাতে কেউ বুঝতে না পেরে আমরা পড়ছি না, ঘন্টা পর ঘন্টা আড্ডা গল্প রাজনৈতিক আলোচনার মধ্যদিয়ে আমরা আত্মীয়তার বন্ধন ছাপিয়ে ভাল বন্ধু হয়ে উঠেছি । টুকু সক্রিয় হয়ে উঠল রাজনীতিতে আমি সাংবাদিকতায়। তবে বরগুনা থাকাকালীন সময়ে আলাইপট্টিতে নাস্তা এমনি এক কাপ চা খেতেও দুজন একসাথেই। খুব কাছ থেকে দেখা এই মানুষটাকে ঐ সময়ই মনে হয়েছে সততা,
দৃঢ়তা এবং ভিন্ন চিন্তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বাসার বাজার করতে গেলে দুই চার টাকা থাকলে আমরা কখনো হিসাব দিতাম না। কিন্তু টুকু বাজার করে হিসাব দিয়ে তার ৫ টাকা প্রয়োজন হলে বাকী টাকা ফেরত দিয়ে ৫ টাকাই নিয়ে যেত। ছোট বেলায় আমরা প্রত্যেকেই বাবা মায়ের পকেট থেকে কিংবা আলমারী থেকে ২০, ৫০ টাকা নিতাম। কিন্তু টুকু ব্যতিক্রম বরং কখনো কখনো প্রতিবাদ করত । আমাদের নিজস্ব কোন হিসাব ছিল না। একই টাকা ভাবতাম। যার যখন প্রয়োজন খরচ করত। কিন্ত আমি ওর পকেট থেকে না বলে টাকা নিলেও আমার পকেট থেকে টাকা নেয়ার সময় ঠিকই বলে নিত। সাধারণ জীবন যাপনে তার প্রয়োজনটা ছিল খুব কম।তবে কিছুটা এক রোখাও ছিল ১০ টাকা চাইলে ১০ টাকাই। কমও না বেশীও না। 
 
পারিবারিক ও সামাজিক পরিমন্ডলে অনেক ছোট খাট অযৌক্তিক ও অন্যায্য বিষয়গুলো আমরা এড়িয়ে গেলেও টুকু ঠিকই প্রতিবাদ করত। একজন রিকসা চালকের সাথে কেউ খারাপ আচরণ করেছে টুকুর সামনে হলে ঠিকই প্রতিবাদ করত এড়িয়ে যেত না। বিষয়গুলো খুবই ছোট ও বিচ্ছিন্ন। ঐ বয়সে একটা মানুষকে বিচার করার জন্য চিন্তা-মনন, বিশ্বাস - দর্শন এবং আদর্শ বুঝার জন্য এগুলোই যথেষ্ট যা আজো সে ধারণ করে। কাছের মানুষদেরও কোনটা ভুল কোনটা সঠিক এটা বলতে এখনো দ্বিধা করেনা।
টুকু একজন আড্ডাবাজ বন্ধুবৎসল মানুষ। এটা ছাত্রজীবন থেকেই। তবে সব সময়ই আড্ডার মধ্যমনি।তবে আলোচনার প্রাসাঙ্গিকতা, অকাট্য যুক্তি, Sense of humour এবং অন্যদের মতামতের প্রতি সম্মান আড্ডাকে সব সময়ই প্রান্তবন্ত করে তুলত।
চিন্তার দূরদর্শিতা তার একটি অনন্য গুণ। সমসাময়িক জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়ে তার অসাধারণ বিশ্লেষন এবং Philosophical logic দেখে খুবই অবাক হই। ইন্ডিয়ার কংগ্রেস নেতা গোখলের একটা কথা আছে What Bengal Thinks Today, India Thinks Tomorrow. গোলাম সরোয়ার টুকুর ক্ষেত্রেও মাঝে মাঝে আমার এরকমটাই মনে হয়। আমাদের চেয়ে তার চিন্তার ভিন্নতাই তাকে ভিন্ন মাত্রায় ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এটা আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি ।
আমরা একটা বৈশ্বিক মহামারী অতিক্রম করছি। একজন রাজনৈতিক নেতা হিসাবে সমকালীন বাস্তবতা, পরিবর্তিত পরিস্থতি সাথে খাপ খাইয়ে দান্তের ভাষায় সাহসিকতার সাথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশায় - শুভ জন্মদিন।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

হলুদ সাংবাদিকতা , যোশেফ পুলিৎজার এবং আমেরিকা-স্পেন যুদ্ধ

গত কয়েকদিন ধরে পিভিএতে সাংবাদিকতা, নাগরিক সাংবাদিকতা নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে। গ্রুপ সদস্যরাও অলোচনায় অংশগ্রহণ করছেন এবং অম্ল-মধূর বাক্য ব্যয় করছেন। কারো কারো আলোচনায় মনে হয় সাংবাদিকরাই নাটের গুরু। ভাবখানা এরকম-যত দোষ নন্দ ঘোষ। আর সাংবাদিকদের গালি দেয়ার জন্য এ যাবত সবচেয়ে বেশী ব্যবহার করা শব্দ যুগল হচ্ছে হলুদ সাংবাদিকতা। সাংবাদিকতা করছেন কিন্তু হলুদ সাংবাদিকতা শব্দ যুগল কখনো শোনেননি এরকম কেউ আছেন বলে আমার মনে হয় না । পেশাগত কাজে না শুনলেও সাংবাদিকদের গালি গালাজ করার জন্য রাজনৈতিক নেতা বা উচ্চ পর্যায়ে কর্মকর্তারা অহরহ হলুদ সাংবাদিকতা শব্দটি ব্যবহার করছেন আর তাদের গালি গালাজ শুনতে শুনতে আমার বিশ্বাস প্রত্যেক সাংবাদিকের এ শব্দটি মুখস্থ হয়ে গেছে । কিন্তু হলুদ সাংবাদিকতা কি, কেনই বা সংবাদপত্রে পরিভাষার উদ্ভব হলো আর কেনইবা এতো রং থাকতে হলুদকেই বেছে নেয়া হলো এমন কিছু প্রশ্নের উত্তর নিয়েই আজকের পিভিএর আয়োজন। হলুদ সাংবাদিকতা কি উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ভিত্তিহীন রোমাঞ্চকর সংবাদ পরিবেশন বা উপস্থাপনকেই হলুদ সাংবাদিকতা বলে । এ ধরনের সাংবাদিকতায় তথ্যানুসন্ধান না করেই দৃষ্টি...

ব্রাজিল সমর্থকদের কমিটি গঠন, এক বৃটিশ চালাক ভদ্রলোক ও পিভিএ'র পথচলা ।।

এক বাংলাদেশী নামকরা ডাক্তার লন্ডনে চাকরি না পেয়ে মানবতার সেবা এবং সহজ সরলভাবে জীবিকা নির্বাহ করার জন্য তাবু টানিয়ে অস্থায়ী ক্লিনিক খুলে বসল। তাঁবুর বাইরে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে লিখে দিল 'GET TREATMENT FOR £20 - IF NOT CURED GET BACK £100 বিফলে মূল্য ফেরত! এ দেখে এক ব্রিটিশ চালাক লোক চিন্তা করল একই সাথে বোকা বাঙালীকে জব্দ করা এবং ১০০ পাউন্ড ধান্ধা করার এই সুযোগ। একে তো ব্রিটিশ, তার উপর অতি বুদ্ধিমান ভাবুন একবার! যথারীতি ভদ্রলোক গিয়ে ডাক্তারকে বলল- আমার জিহ্বায় কোন কিছুর স্বাদ পাইনা, আমি কোন স্বাদ পরখ করতে পারিনা আমার চিকিৎসা করুন। ডাক্তার বুঝতে পেরে তার এসিস্ট্যান্টকে হাঁক দিয়ে বলল- একে ৪২০ নম্বর বোতল থেকে তিন ফোটা খাইয়ে দাও। ঔষধ খাওয়ানোর পর ভদ্রলোক চেঁচিয়ে উঠল- এটা তো কেরোসিন! ডাক্তার: গুড, আপনার জিহ্বা কাজ করা শুরু করেছে, ২০ পাউন্ড দিন। ২০ পাউন্ড হারিয়ে অনেক ভেবেচিন্তে ভদ্রলোক দ্বিতীয় দিন আবার আসল ভদ্রলোক : আমার স্মৃতি কাজ করছেনা, আপনি আমার চিকিৎসা করুন।এসিস্ট্যান্টকে হাঁক দিয়ে বলল- একে ৪২০ নম্বর বোতল থেকে চার ফোটা খাইয়ে দাও। খাওয়ানোর পর ভদ্রলোক রেগেমেগে একাকার। ব...

আগস্টে করোনার ব্যাপক সংক্রমনের আশংকা, কর্মস্থলে পৌছার বিশেষ ব্যবস্থা না করেই পোষাক শিল্প কারখানা খুলে দেয়া সরকারের সুইসাইডাল সিদ্ধান্ত।।

  রেডিমেট গার্মেন্টস -আরএমজি সেকটর নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশী বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী রপ্তানী খাত। ২০১৯ সালেও তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। ঐ বছর ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি করে বাংলাদেশ। কিন্তু করোনার কারনে পোষাক শিল্পে বড় ধাক্কা লাগলেও বাংলাদেশ তা কাটিয়ে উঠে। ২০২০-২১ অর্থবছরে ৩ হাজার ১৪৫ কোটি ৬৭ লাখ ডলারের পোশাক পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেশি৷ একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সবচেয়ে বড় রফতানি বাজার যুক্তরাষ্ট্র। কোভিড পরিস্থিতিতেও ২০২০-২১ অর্থ বছরে দেশটিতে পোশাক রফতানি বেড়েছে ১৩ শতাংশের বেশি। সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে, অন্তত আগামী দুই বছর এ প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় থাকবে। এ সময় বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক ক্রয় বাড়িয়ে তুলতে যাচ্ছে মার্কিন খুচরা বিক্রেতা (রিটেইলার) প্রতিষ্ঠানগুলো। আমেরিকার বাজারে বাংলাদশী আরএমজি পণ্যের সম্ভাবনা দিন দিন বাড়ছে। তারমানে এই নয়, দেশের ১৮ কোটি মানুষকে করোনা ঝুকিতে রেখে বিজিএমইএ এর স্বার্থ রক্ষায় গার্মেন্টস শিল্প কারখানা খুলে দিতে হবে। তারপরেও লক ডাউনের ম...