সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

এক হ্যামিলনের বাশিওয়ালার জন্মদিন, সংকট সম্ভাবণায় শুভ দিনের প্রত্যাশা।।

 

John C Maxwel খুব চমৎকারভাবে বলেছেন Leaders become great not because of their power but, because of their ability to empower others. এরকম একজন নেতা গোলাম সরোয়ার টুকু। পুরো রাজনৈতিক জীবনে স্রোতের বিরুদ্ধে থাকা মানুষটার সাথে সব সময়ই ঢাল হয়ে পাশে ছিল ছাত্র -যুবক ও বরগুনার সাধারণ মানুষ। বরগুনা সরকারী কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে একাই দাড়ালেন,তার পক্ষ হয়ে লড়লেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সে এক অভাবনীয় এবং অপকল্পনীয় যুথবদ্ধ ঐক্য। 
 
কোনদিন কোন স্থানীয় সরকার বা সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি। জনপ্রিয়তার বাটখারায় মাপাও যায়নি সে কত জনপ্রিয়। সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেন একজন ৫ বারের সংসদ সদস্য, উপমন্ত্রী ও প্রায় ৩৪ বছর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং আওয়ামীলীগের মত সাংগঠনিককভাবে শক্তিশালী দলের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে। এবারও ঘটল একটি অভাবনীয় কান্ড। দলে দলে মানুষ তাকেই বরগুনা - আমতলী - তালতলী নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য নির্বাচিত করল। এ যেন এক হ্যামিলনের বাশিওয়ালা। মানুষকে হাসাতে,কাদাতে, ক্ষুদ্ধ করতে, উদ্ধুদ্ধ করতে,পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখাতে অসাধারণ এক ক্যারিশমেটিক ও সম্মোহনী শক্তি । এ এক Emotional Intelligence. অনেকে তার সমালোচনা করেন, অযৌক্তিক ও অযাচিত বাক্যবাণে জর্জরিত করেন। একজন রাজনৈতিক নেতার জন্য এটা খুবই স্বাভাবিক। একজন রাজনৈতিক নেতা একজন মানুষ, ফেরেস্তা নন- সমালোচনার উর্ধেও নন।কিন্তু একবারও ভেবে দেখেছেন? কি এমন তার শক্তি যা দিয়ে, কি অবস্থায়, কার সাথে এত কঠিন নির্বাচনে জয়ী হলেন ।
ছয় মাসও এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। তারপরেও সংসদে তার বলিষ্ঠ কন্ঠ মানুষকে আশান্বিত করেছে। যেখানে সংকট, সেখানেই ছুটে গেছেন। তুলে ধরেছেন সংসদে। 
 
আজকে বরগুনার মানুষ এক চরম দু:সময় পার করছেন। ডেঙ্গুর আক্রমনে বরগুনা পৌরসভাসহ গৌরিচন্না অন্যান্য ইউনিয়ন, আমতলী তালতলী উপজেলার মানুষ দিশেহারা। স্বজন হারানোর বেদনায় মানুষ কাতর। আজকে টুকুর মত একজন নেতার খুব প্রয়োজন । 
 
দেশের এই ক্রান্তি লগ্নে টুকুর মত ক্লিন ইমেজের মানুষরাও সংকট পার করছেন। কিন্তু আধার যত গভীর হোক,কালো মেঘ বিদীর্ণ করে সকালের সূর্য উঠবেই। হুমায়ুন আহমেদের সেই কথাটি আজ খুব মনে পড়ে, এই দিন নয় আরো দিন আছে, এই দিনেরে নিয়ে যাব সেই দিনেরই কাছে। মনে রাখবেন, প্রত্যেকটি সংকট, ক্রান্তিকাল -নতুন সম্ভাবণার দ্বার উম্মোচন করে। 
 
আমরা জানি সেই নাবিকই দক্ষ ও সাহসী, যে বৈরী পরিস্থিতিতেও হাল ধরে রাখে,ঝড়-তুফানকে জয় করে পৌঁছে যায় গন্তব্যে। সকল সাদা মনের মানুষ, ক্লিন ইমেজের মানুষের জন্য শুভ দিনের প্রত্যাশায়। শুভ জন্মদিন।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

হলুদ সাংবাদিকতা , যোশেফ পুলিৎজার এবং আমেরিকা-স্পেন যুদ্ধ

গত কয়েকদিন ধরে পিভিএতে সাংবাদিকতা, নাগরিক সাংবাদিকতা নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে। গ্রুপ সদস্যরাও অলোচনায় অংশগ্রহণ করছেন এবং অম্ল-মধূর বাক্য ব্যয় করছেন। কারো কারো আলোচনায় মনে হয় সাংবাদিকরাই নাটের গুরু। ভাবখানা এরকম-যত দোষ নন্দ ঘোষ। আর সাংবাদিকদের গালি দেয়ার জন্য এ যাবত সবচেয়ে বেশী ব্যবহার করা শব্দ যুগল হচ্ছে হলুদ সাংবাদিকতা। সাংবাদিকতা করছেন কিন্তু হলুদ সাংবাদিকতা শব্দ যুগল কখনো শোনেননি এরকম কেউ আছেন বলে আমার মনে হয় না । পেশাগত কাজে না শুনলেও সাংবাদিকদের গালি গালাজ করার জন্য রাজনৈতিক নেতা বা উচ্চ পর্যায়ে কর্মকর্তারা অহরহ হলুদ সাংবাদিকতা শব্দটি ব্যবহার করছেন আর তাদের গালি গালাজ শুনতে শুনতে আমার বিশ্বাস প্রত্যেক সাংবাদিকের এ শব্দটি মুখস্থ হয়ে গেছে । কিন্তু হলুদ সাংবাদিকতা কি, কেনই বা সংবাদপত্রে পরিভাষার উদ্ভব হলো আর কেনইবা এতো রং থাকতে হলুদকেই বেছে নেয়া হলো এমন কিছু প্রশ্নের উত্তর নিয়েই আজকের পিভিএর আয়োজন। হলুদ সাংবাদিকতা কি উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ভিত্তিহীন রোমাঞ্চকর সংবাদ পরিবেশন বা উপস্থাপনকেই হলুদ সাংবাদিকতা বলে । এ ধরনের সাংবাদিকতায় তথ্যানুসন্ধান না করেই দৃষ্টি...

ব্রাজিল সমর্থকদের কমিটি গঠন, এক বৃটিশ চালাক ভদ্রলোক ও পিভিএ'র পথচলা ।।

এক বাংলাদেশী নামকরা ডাক্তার লন্ডনে চাকরি না পেয়ে মানবতার সেবা এবং সহজ সরলভাবে জীবিকা নির্বাহ করার জন্য তাবু টানিয়ে অস্থায়ী ক্লিনিক খুলে বসল। তাঁবুর বাইরে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে লিখে দিল 'GET TREATMENT FOR £20 - IF NOT CURED GET BACK £100 বিফলে মূল্য ফেরত! এ দেখে এক ব্রিটিশ চালাক লোক চিন্তা করল একই সাথে বোকা বাঙালীকে জব্দ করা এবং ১০০ পাউন্ড ধান্ধা করার এই সুযোগ। একে তো ব্রিটিশ, তার উপর অতি বুদ্ধিমান ভাবুন একবার! যথারীতি ভদ্রলোক গিয়ে ডাক্তারকে বলল- আমার জিহ্বায় কোন কিছুর স্বাদ পাইনা, আমি কোন স্বাদ পরখ করতে পারিনা আমার চিকিৎসা করুন। ডাক্তার বুঝতে পেরে তার এসিস্ট্যান্টকে হাঁক দিয়ে বলল- একে ৪২০ নম্বর বোতল থেকে তিন ফোটা খাইয়ে দাও। ঔষধ খাওয়ানোর পর ভদ্রলোক চেঁচিয়ে উঠল- এটা তো কেরোসিন! ডাক্তার: গুড, আপনার জিহ্বা কাজ করা শুরু করেছে, ২০ পাউন্ড দিন। ২০ পাউন্ড হারিয়ে অনেক ভেবেচিন্তে ভদ্রলোক দ্বিতীয় দিন আবার আসল ভদ্রলোক : আমার স্মৃতি কাজ করছেনা, আপনি আমার চিকিৎসা করুন।এসিস্ট্যান্টকে হাঁক দিয়ে বলল- একে ৪২০ নম্বর বোতল থেকে চার ফোটা খাইয়ে দাও। খাওয়ানোর পর ভদ্রলোক রেগেমেগে একাকার। ব...

বৈষ্ণব পদাবলী,ভন্ড মজিদ-কুবের ও একজন সুলতান আহমেদ

১৯৮৬ সন। আমি তখন বরগুনা সরকারী কলেজের ছাত্র। রাজনৈতিক কারনে বিকালে আমাদের আড্ডা ছিল বরগুনা বাজার রোডের আবদুল আলিম হিমু সম্পাদিত সাপ্তাহিক বরগুনা কন্ঠের বিপরিতে সাজুর চায়ের দোকানে। অধিকাংশ সময়ে আড্ডার মধ্যমনি ছিল জাসদ নেতা সালাম আলমাস চৌধুরী। এক সময়ে তিনি আমতলী কলেজের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। ৮৬ সনের জানুয়ারী কি ফ্রেব্রুয়ারী মাস,শীতের সন্ধ্যায় আমরা সাজুর চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছি। অপরিচিত এক ভদ্রলোক ডুকে সালাম দিয়ে আমাদের পাশের টেবিলে বসলেন। খুবই সাধারণ পোষাক পরিচ্ছেদ, হাতে একটি ডায়রী এবং বলার স্টাইল ও উচ্চারণ অনেকটাই স্থানীয় সাদা মাটা । প্রথম দেখায় খুব একটা ভাল না লাগলেও যখন শুনলাম তিনি বরগুনা আলীয়া মাদ্রাসায় বাংলা বিভাগের প্রভাষক এবং তার বাড়ি পটুয়াখালী সদর উপজেলার মরিচবুনিয়া ইউনিয়নে, তখন হঠাৎ করেই তার প্রতি একটা ভাললাগা তৈরী হয়ে গেল। এরপর মাঝেই মাঝেই তিনি আমাদের আড্ডায় আসতেন এবং দিনে দিনে তিনিও হয়ে উঠলেন আমাদের আড্ডার অন্যতম আকর্ষন। তার সহজ সরল বলার স্টাইল হাসতে হাসতে কঠিন কথা বলার কৌশল এবং সাহসীকতা আমাদেরকে খুব আকৃষ্ট করত। এরপর অনেক দিন তারসাথে আর যোগা...