সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

লিটন বাশার : একজন সময়ের সাহসী সাংবাদিক

১৯ জুন ছিল বরিশাল প্রেসক্লাবের স্বজন স্মরণ দিবস। প্রতি বছর প্রয়াত সহযোদ্ধাদের স্মরণ করার জন্য বরিশাল প্রেসক্লাব এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। এ বছর বৃহৎ কলেবরে একটি স্মরণিকা বের করার উদ্যোগ নিলে ১৯৭২-৭৩ সময়কালের দৈনিক ইত্তেফাকের বরিশাল সংবাদদাতা বরিশাল বিএম কলেজের ছাত্রনেতা আমার অগ্রজ শহীদ নজরুল ইসলাম সম্পর্কে কিছু লেখার জন্য বরিশাল প্রেসক্লাবের সিনিয়র সাংবাদিক নজরুল ইসলাম চুন্নু ভাই আমাকে ফোন করেন। ১৯৭৩ সনে আমি খুব ছোট  । নজরুল এবং সমসাময়ীক রাজনীতি এবং সাংবাদিকতা সম্পর্কে আমার জানার ব্যপ্তি একেবারেই সীমিত। তার সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সাংবাদিক সহযোদ্ধাদের সাথে আলোচনা এবং secondary source ঘাটতে গিয়ে বারবারই date line মিস করছিলাম। আর নজরুল ভাই এবং দেবাশীষ  দা বারবার  তাগাদা দিচ্ছিলেন। হঠাৎ করে ২ জুন  রাত ১২টার দিকে ফোন করেন সাংবাদিক বন্ধুবর লিটন বাশার। ধমকের সুরেই বললেন ও ভাই, আপনি কি আমার চেয়েও আলিস্যা। তাকে সবকিছু বুঝিয়ে বললাম এবং এও নিশ্চিত করলাম পরেরদিন  সকাল ১০ টার মধ্যে লেখাটি পাঠাবো। ১৮ জুন রাতেও ফোন করেছিলেন ১৯ তারিখ প্রেসক্লাবের প্রোগ্রামে যাওয়ার জন্য।  কথাও দিয়েছিলাম যাব। কিন্তু অফিসের ব্যস্ততার কারনে বরিশাল প্রেসক্লাবের প্রোগ্রামে যাওয়া  হয়নি বলে এটিই ছিল লিটন বাশারের সাথে আমার শেষ কথা। কিন্তু স্বপ্নেও ভাবিনি একজন ইত্তেফাক সাংবাদিকের স্মৃতি কথা লেখার মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে আরেকজন ইত্তেফাক সাংবাদিক সম্পর্কেও  কিছু লিখতে হবে।

লিটন বাশারের সাথে পরিচয় দীর্ঘদিনের। উপকূলীয় ভোলার একজন সাহসী সাংবাদিক হিসাবে লিটন বাশারের  ব্যাপক পরিচিতি ছিল। ইত্তেফাক বরিশাল অফিসে যোগ দেয়ার পর তার সাথে ঘনিষ্টতা আরো বাড়ে। তখন তথ্য প্রযুক্তি এত উন্নত ছিল না। অনেক সংবাদ সরাসরি ইত্তেফাকে না পাঠিয়ে মাইনুল ভাইকে দিতাম। প্রায়  সময় ফোন ধরত লিটন বাশার। সদা হাস্যজ্জল এই মানুষটি অল্প সময়ের মধ্যেই শুধু ইত্তেফাকের সাংবাদিকই  নয়,  দক্ষিনাঞ্চলের সকল সাংবাদিকদের প্রিয় ব্যক্তি হয়ে ওঠেন। মাইনুল ভাই ছিলেন এ অঞ্চলের সাংবাদিকদের প্রিয় অভিভাবক। তার অকাল  মৃত্যুতে আমরা অভিভাবকহীন হয়ে পরলে এই শূন্যতা পূরণে যেকজন সাংবাদিক সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেছেন লিটন বাশার তাদের অন্যতম। এ অঞ্চলের সাংবাদিকদের সুখ -দু:খে, বিপদে- আপদে যে মানুষটি সবার আগে ছুটে আসতেন,পাশে দাড়াতেন এবং সাহসী ভুমিকা পালন করতেন তিনিই  লিটন বাশার।

মাইনুল হাসান, গুরু ওয়াজেদ আলী খান, মনির হোসেন, মীর মনিরুজ্জামান ও জিএম বাবর আলীর পথ ধরে লিটন বাশারের আদর্শ, সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতা আমাদেরকে পথ দেখাবে আলোক বর্তিকার মত, বন্ধুবর লিটন বাশাররা যুগ যুগ ধরে বেচে থাকবে আমাদের স্মৃতির মনি কোঠায়, জ্বল জ্বলে চোখের তারায়।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

মামনির জন্মদিন: স্বপ্নের চেয়েও বড় হও।

১৯২৮ সন। পন্ডিত জহরলাল নেহেরু তখন এলাহবাদে। আর ১০ বছরের ইন্দিরা গান্ধী থাকেন হিমালয়ের কোলঘেসে মূসৌরী শহরে। যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম চিঠি। নেহেরু প্রায়ই মেয়েকে চিঠিতে প্রকৃতি, পৃথিবী ও মানব সভ্যতার বিকাশসহ ভারতের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে লিখতেন। ১৯২৯ সনের নভেম্বর মাসে এসব চিঠি নিয়ে মা-মনিকে-বাবা নামে একটি বই প্রকাশিত হলে তা ইতিহাসের অংশ হয়ে যায় । বর্তমানে এটি ভারতের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে এবং রেফারেন্স বুক হিসাবে পড়ানো হয়।কুটনৈ তিক ফারুক চৌধুরীর কুটনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে লেখা প্রিয় ফারজানাও আমাদের ভ্রমন সাহিত্য ও ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে। প্রত্যেক পিতাই দূরে থাকা সন্তানদের প্রতি কিছু পরামর্শ, কিছু নির্দেশনা দিয়ে থাকে। আগে চিঠি লিখত,এখন তার জায়গায় ইমেইল, মোবাইল বা সোশ্যাল মিডিয়া ।এজন্য নির্দেশনাটাও বেশী । এটা কর, ওটা কর না । সন্ধ্যার আগেই বাসায় বা হলে ফের। রাত কর না। রাজনীতিতে জড়িও না, কোটা সংস্কার আন্দোলন কিংবা নিরাপদ সড়কের আন্দোলনে যেও না। কারন অভিভাবকরা সব সময় সন্তানকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকে, মেয়ে হলে তো কথাই নেই । সন্তানরা হয়ত ভাবে, আমরা বড় হয়েছি এত ট...

সুবন্ধি বাধ: লাখো মানুষের মরণ ফাদ।।

সুবন্ধি বাধ চাওড়া, হলদিয়া,  আমতলী সদর ও আমতলী পৌরসভার প্রায় ৮০ হাজার মানুষের মরণ ফাদে পরিনত হয়েছে। আমরা যারা এ খালের দুপাড়ে বসবাস করি তারা জানি পানির প্রবাহ না থাকায় কচুরীপানা পচে পানি নষ্ট হয়ে গেছে।  কৃষি কাজে এ খালের পানি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থবির হয়ে গেছে। হলদিয়া গ্রামের  এক অংশ, চিলা ও চাওড়া চলাভাংগা গ্রামের কৃষকরা পরিবহন করতে না পারায় আউশ চাষ বন্ধ করে দিয়েছে। গৃহস্তালি কাজেও এ খালের পানি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এমনকি গবাদি পশুও এ খালের পানি পান করছে না। দুর্গন্ধে খালের পাশ দিয়ে হাটা যায় না। মশা ও সাপের  উপদ্রব এবং ঘরে ঘরে চর্ম রোগের প্রাদুর্ভাব জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকিতে রয়েছে। এ খালে মাছ ধরে প্রায় ৫শ মানুষ জীবিকা নির্বাহ করত তাদের জীবন জীবিকা আজ ঝুকির মুখে পরেছে। খালে পানির প্রবাহ না থাকলে এ সমস্যা সমাধান করা যাবে না আর পানির প্রবাহ নিশ্চিত করার একমাত্র উপায় সুবন্ধি বাধ কেটে দেয়া। কিন্ত একটি মহল গুটি কয়েক ব্যক্তির স্বার্থে ৮০ হাজার মানুষের জীবন জীবিকাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন,হীন স্বার্থে খাল কাটার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অথচ তারা ...

স্টিফেন হকিংস’র প্রেমিকা ও PVA এর সফলতা -ব্যর্থতার গল্প ।।

মাত্র ৩৮ ঘন্টা আগে পৃথিবীর সকল মায়া ত্যাগ করে চির বিদায় নিলেন বিখ্যাত পদার্থ বিজ্ঞানী A Brief History of Time বইয়ের লেখক Stephen William Hawking । ১৯৬৪ সন, হকিংস ক্যামব্রীজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। বোনের বান্ধবী Jane Wilde কে প্রথম দেখাতেই প্রেমে পরে গেলেন । একেই বলে Love at the first sight । আর কি প্রেম, একদম সরাসরি ইনগেজমেন্ট এবং ১৯৬৫ সনে বিয়ে । তখনই হকিংস এর শরীরে motor neurone disease ধীরে ধীরে বাড়ছে। স্ত্রীর ভালবাসা আর সেবা পেয়ে হকিংস শুধু সুস্থ্য হয়ে উঠলেন না নতুন উদ্যমে শুরু করলেন লেখাপড়া আর কাজ । মিডিয়ার সামনে বলেই ফেললেন Jane Wilde এর সাথে প্রণয়ই আমাকে কিছুটা বাচতে এবং দুনিয়াটা ঝাকুনি দিতে শিখিয়েছে । People's Voice of Amtali- PVA শুরুতেই একটি চ্যালেঞ্জের মুখে পরেছে। বরগুনা জেলা প্রশাসন, সাংবাদিক ও বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের প্রচেষ্টায় সমস্যা তুলে আনা, তাৎক্ষনিক সমস্যা সমাধান করে Citizen's Voice-Barguna শুধু জনপ্রিয়তাই অর্জন করেনি Citizen's Journalism এর ক্ষেত্রে একটি role model হয়ে উঠেছে । এটি PVA এর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কারন সবাই CVB এর মত PVA ...