সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

আফতাব আলম, একজন সৎ এবং আদর্শ শিক্ষক

আলহাজ্ব আফতাব আলম (রত্তন সিকদার)। একজন সৎ এবং আদর্শ শিক্ষক । সর্বশেষ কর্মস্থল বরগুনা সরকারী বালিকা বিদ্যালয়।এখান থেকে প্রধান শিক্ষক হিসাবে অবসর গ্রহণ করেন । শিক্ষকতা জীবনে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং ছাত্র -শিক্ষক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশেষ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। অবসর গ্রহণের পরে আমতলীর বিভিন্ন সামাজিক কাজের সাথে যুক্ত হয়েছিলেন। কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তি একত্রিত হয়ে গড়ে তুলেছিলেন মুক্ত জীবন নামের একটি সংগঠন ।  জন্ম আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের ঘটখালী গ্রামে । পিতা মরহুম আমিন উদ্দিন সিকদার একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং সমাজসেবক । ১৪ মে, ২০১৭ সনে আমতলীর এই কৃতি সন্তান ইন্তেকাল করেন।

আজ ২৫ মে,বিদ্রোহী কবির ১১৯তম জন্ম বার্ষিকী

আজ শুক্রবার ২৫ মে,২০১৮, বাংলা ১১ জ্যেষ্ঠ,১৪২৫। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৯তম জন্ম বার্ষিকী। দ্রোহ, প্রেম ও সাম্যের কবি হিসেবে বাংলা সাহিত্যে নজরুল ইসলাম এক বিশেষ স্থান দখল করে আছেন । ১৮৯৯ সাল বাংলা ১৩০৬ সনের এইদিনে বর্ধমান জেলার আসানসোলের চুরুলিয়া গ্রামে কাজী পরিবারে কবির জন্ম। বরেণ্য এ কবি নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছেন। মাত্র ৯ বছর বয়সে পিতা কাজী ফকির আহমেদকে হারান । আর্থিক অণটনে পড়ে বই-খাতা রেখে রোজগারে নামতে হয়েছে। কখনও মসজিদের ইমামতি, মাজারের খাদেমগিরি কিংবা চায়ের দোকানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এজন্য ছেলেবেলায় সবাই তাকে ‘দুখু মিয়া’ বলে ডাকত । আসানসোলের চা-রুটির দোকানে রুটির কাজ করার সময় সেখানে কর্মরত দারোগা রফিজ উল্লাহ’র সঙ্গে পরিচয় হয় নজরুলের। তিনি কিশোর নজরুলকে নিয়ে ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালের দরিরামপুর স্কুলে ১৯১৪ সনে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি করে দেন। কিন্তু মাধ্যমিক পরীক্ষা না দিয়েই ১৯১৭ সালে সেনাবাহিনীতে সৈনিক হিসেবে যোগদান করেন এবং অংশ নেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধে। বাংলা সাহিত্যে নজরুল ইসলাম জনপ্রিয় হয়েছেন কবিতা ও গানে। ব্রিটিশ শাসকদের...

বাহাদুর খান,খ্যাতিমান নাট্যকর্মী, একজন সাহসী সাংবাদিক

বাহাদুর খান। পুরো নাম খান অবদুল্লাহ আল বাকী। একজন খ্যাতিমান নাট্যকর্মী, সাংস্কৃতিক সংগঠক ও সাহসী সাংবাদিক। যৌবনে সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেই যুক্ত হয়েছিলেন বাম ধারার রাজনীতির সাথে। ছিলেন সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অগ্রসেনানী। ১৯৮৭ সনে এরশাদ বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে প্রায় ৬ মাস কারাবরণ করেছেন। দীর্ঘদিন উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, আমতলী শিল্পকলা একাডেমীর সম্পাদক এবং আমতলী প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসাবে সৎ এবং নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।  জন্ম ১ মার্চ, ১৯৬১ সন আমতলী শহরের নিজ বাসভবনে। পিতা মরহুম বি. করিম খান আমতলী এম.ইউ বালক বিদ্যালয়ের একজন খ্যাতিমান প্রধান শিক্ষক ছিলেন। ৫ মে, ২০০৬ সনে আমতলীর এই সংগ্রামী মানুষটি ক্যান্সারের মত মরণ ব্যধির কাছে হেরে গেছেন ।

বৈষ্ণব পদাবলী,ভন্ড মজিদ-কুবের ও একজন সুলতান আহমেদ

১৯৮৬ সন। আমি তখন বরগুনা সরকারী কলেজের ছাত্র। রাজনৈতিক কারনে বিকালে আমাদের আড্ডা ছিল বরগুনা বাজার রোডের আবদুল আলিম হিমু সম্পাদিত সাপ্তাহিক বরগুনা কন্ঠের বিপরিতে সাজুর চায়ের দোকানে। অধিকাংশ সময়ে আড্ডার মধ্যমনি ছিল জাসদ নেতা সালাম আলমাস চৌধুরী। এক সময়ে তিনি আমতলী কলেজের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। ৮৬ সনের জানুয়ারী কি ফ্রেব্রুয়ারী মাস,শীতের সন্ধ্যায় আমরা সাজুর চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছি। অপরিচিত এক ভদ্রলোক ডুকে সালাম দিয়ে আমাদের পাশের টেবিলে বসলেন। খুবই সাধারণ পোষাক পরিচ্ছেদ, হাতে একটি ডায়রী এবং বলার স্টাইল ও উচ্চারণ অনেকটাই স্থানীয় সাদা মাটা । প্রথম দেখায় খুব একটা ভাল না লাগলেও যখন শুনলাম তিনি বরগুনা আলীয়া মাদ্রাসায় বাংলা বিভাগের প্রভাষক এবং তার বাড়ি পটুয়াখালী সদর উপজেলার মরিচবুনিয়া ইউনিয়নে, তখন হঠাৎ করেই তার প্রতি একটা ভাললাগা তৈরী হয়ে গেল। এরপর মাঝেই মাঝেই তিনি আমাদের আড্ডায় আসতেন এবং দিনে দিনে তিনিও হয়ে উঠলেন আমাদের আড্ডার অন্যতম আকর্ষন। তার সহজ সরল বলার স্টাইল হাসতে হাসতে কঠিন কথা বলার কৌশল এবং সাহসীকতা আমাদেরকে খুব আকৃষ্ট করত। এরপর অনেক দিন তারসাথে আর যোগা...

রাশিদুল হাসান খান, একজন খ্যাতিমান আর্কিটেক্ট,একজন তুখোর ছাত্রনেতা

ড. রাশিদুল হাসান খান। একজন তুখোর ছাত্রনেতা, একজন খ্যাতিমান আর্কিটেক্ট ।১৯৭১ সনের রণাঙ্গনের এই সাহসী সৈনিক ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সন পর্যন্ত পর পর দুবার হাসান-তাহের পরিষদে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ৭৫ পরবর্তি সময়ে লেখাপড়া এবং চাকুরীর কারনে দেশের রাজনীতিতে না থেকে তিনি সৌদি প্রবাসী হলেন। ১৯৭৯ সনে তিনি ডক্টরেট করেন । যে কজন আর্কিটেক্ট সৌদি আরবের রাজধানীর আধুনিক রূপ ায়ণের মাস্টার প্ল্যান করেছিলেন তাদের অন্যতম ছিলেন রাশিদুল হাসান খান । দেশে ফিরে আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত হলেও ছাত্র রাজনীতিতে যতটা সফল ছিলেন মূলধারার রাজনীতির কেমিস্ট্রি বুঝতে না পারায় ঠিক ততটাই অসফল।  জন্ম ২৯ আগস্ট, ১৯৪৮ সনে আমতলী উপজেলার চালিতাবুনিয়া গ্রামে । পিতা ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন,একজন খ্যাতিমান চিকিৎসক । ৫ মে, ২০১৮ সনে আমতলীর এই কৃতি সন্তান পটুয়াখালীর নিজ বাসভবনে ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন ।

অজয় কর্মকার, একজন খ্যাতিমান সঙ্গীত শিল্পী

অজয় কর্মকার। একজন খ্যাতিমান সঙ্গীত শিল্পী ।পারিবারিক পরিমন্ডল থেকেই সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত। জীবনের প্রথম ভাগ হতেই খুলনা ও বরিশাল বেতারের তালিকা ভুক্ত শিল্পী হিসাবে নিয়মিত আধুনিক গান পরিবেশন করতেন।সদা হাস্যোজ্বল এই অসাধারণ ব্যক্তিত্ব গণ সঙ্গীতের মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখতেন। যুক্ত হয়েছিলেন বাম ধারার রাজনীতির সাথেও। ১৯৭১ সনে ঝাপিয়ে পরেছিলেন মুক্তিযুদ্ধে। যুক্ত ছিলেন খেলাঘর এবং উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সাথে। দীর্ঘদিন আমতলী শিল্পকলা একাডেমীর সম্পাদক হিসাবে সৎ এবং নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও গড়ে তুলেছিলেন ঝুমুর শিল্পী গোষ্ঠী। জন্ম ১২ এপ্রিল, ১৯৫৩ সনে আমতলী শহরে। পিতা স্বর্গীয় অঞ্জন কর্মকার একজন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সমাজসেবক। ২০ মে, ২০১১ সনে আমতলীর এই কৃতি সঙ্গীত শিল্পী আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চির বিদায় নেন।

এ্যাডভোকেট গাজী আমির হোসেন,একজন প্রতিবাদী মানুষের প্রতিকৃতি

এ্যাডভোকেট গাজী আমির হোসেন । একজন প্রতিবাদী মানুষ। মানুষের অধিকার ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সব সময় ছিলেন অকুতোভয় এবং সাহসী যোদ্ধা। দেশ মাতৃকার টানে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। যৌবনে সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছেন। ন্যাপের মনোনীত প্রার্থী হয়ে ১৯৭৩ ও ৭৯ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করেন । আমতলী বনিক সমিতির প্রত িষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। দীর্ঘদিন আমতলী এ. কে পাইলট হাই স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসাবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। একজন আদর্শ শিক্ষক হিসাবে ছাএ -অভিভাবক ও বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষকদের কাছে অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব। তিনি ১৯৮২ সনে আইন পেশায় যুক্ত হন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আইন পেশায় যুক্ত ছিলেন। জন্ম ২৫ আগস্ট, ১৯৪২ সনে আমতলী ইউনিয়নের নীলগঞ্জ গ্রামে । পিতা মরহুম আলহাজ্ব আর্শ্বেদ আলী একজন বিশিষ্ট সমাজসেবক। ২০ মে, ২০০৯ সনে আমতলীর এই কৃতি সন্তান এ মাটি ও মানুষের বন্ধন ছেড়ে চির বিদায় নেন।