সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আমতলীর শিল্প সংস্কৃতির চর্চা, বইমেলা ও একজন উপজেলা নির্বাহী অফিসার

 
আমতলীর শিল্প সাংস্কৃতিক অঙ্গন ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ৮০ দশকে একদিকে তরুনদের অংশগ্রহণে উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর প্রতিবাদী গণসঙ্গীত, নাটক এবং সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় অপেক্ষাকৃত সিনিয়র শিল্পীদের নেতৃত্বে শিল্পকলা পরিষদের সাংস্কৃতিক চর্চা। স্বপন সিদ্দিকী ও বাহাদুর খানের নেতৃত্বে উদীচীর নাটক আমতলী তো বটে পার্শ্ববর্তী উপজেলা কলাপাড়া এবং বরগুনা জেলা সদরেও জনপ্রিয় হয়ে উঠল। এমনকি আমতলী উদীচীর নাটকের কথা শুনলে বরগুনা সিনেমা হলের দর্শক কমে যেত। ভিতরে ভিতরে উদীচী ও শিল্পকলা এ দুধারার মধ্যে একটা প্রতিযোগিতাও ছিল। সেটা কখনো সুস্থ্য কখনো অসুস্থ্যও। এটা বিবেচনা করেই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মানিক চন্দ্র দের নেতৃত্বে আমরা কয়েকজন দুধারাকে একত্রিত করার উদ্যোগ নিলাম এবং সফলও হলাম। শিল্পকলা পরিষদ হয়ে উঠল আমতলীর শিল্প সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্রবিন্দু। সময়ের বিবর্তনে এসব আজ ইতিহাস। বাহাদুর খান মারা যাওয়ার পর আমি কিছুদিন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করলেও সিডর পরবর্তী সময়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের অনীহা এবং শিল্প সংস্কৃতির প্রতি অনাগ্রহের কারনে শিল্পকলা পরিষদকে আর সচল করা যায়নি। বার বার নতুন কমিটি গঠনের দাবীর প্রেক্ষিতে উপজেলা সমাজ সেবা অফিসারকে সম্পাদক করে নতুন কমিটি গঠন করা হলেও রুটিন মাফিক কিছু দিবস পালনের মধ্যেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ ছিল। অযত্নে অবহেলায় নষ্ট হয়ে গেছে হারমোনিয়াম তবলাসহ সকল যন্ত্রপাতি আসবাবপত্র।
আমতলীর সকল পর্যায়ের শিল্পানুরাগী, শিল্পী, সাংস্কৃতিক সংগঠকদের অংশগ্রহণে শিল্পকলা পরিষদের একটি নতুন কমিটি গঠন করে শিল্পকলাকে সচল করা গেলে আবার আমতলীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব। আর এজন্য প্রয়োজন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উদ্যোগ এবং আন্তরিক প্রচেষ্টা। কারন এটি প্রশাসন কেন্দ্রিক একটি প্রতিষ্ঠান। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমতলী প্রেসক্লাবের সাথে প্রথম মতবিনিময় সভায় শিল্পকলা পরিষদকে সচল করার আশ্বাস দিয়েছেন এবং আমরাও তার উদ্যোগের অপেক্ষায় আছি।

আমতলীতে বই মেলার ইতিহাস অনেক পুরানো। আমার যতটা মনে পরে ১৯৮৭ সনে উপজেলা চেয়ারম্যান শামসুল আলম তালুকদারের সহযোগিতায় আবদুল মান্নান সিকদার বর্তমানে একে সংলগ্ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এর উদ্যোগে আমতলীতে আমরা প্রথম বই মেলার আয়োজন করেছিলাম।গত বছর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুসফিকুর রহমান স্যারের উদ্যোগে বই মেলা হয়েছিল। ইতিমধ্যে আমরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরোয়ার হোসেন স্যারের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি। তিনি অত্যন্ত সাফল্যর সাথে ৩দিন ব্যাপী উন্নয়ন মেলা শেষ করেছেন। আশা করি বই মেলারও উদ্যোগ নিবেন।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

হলুদ সাংবাদিকতা , যোশেফ পুলিৎজার এবং আমেরিকা-স্পেন যুদ্ধ

গত কয়েকদিন ধরে পিভিএতে সাংবাদিকতা, নাগরিক সাংবাদিকতা নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে। গ্রুপ সদস্যরাও অলোচনায় অংশগ্রহণ করছেন এবং অম্ল-মধূর বাক্য ব্যয় করছেন। কারো কারো আলোচনায় মনে হয় সাংবাদিকরাই নাটের গুরু। ভাবখানা এরকম-যত দোষ নন্দ ঘোষ। আর সাংবাদিকদের গালি দেয়ার জন্য এ যাবত সবচেয়ে বেশী ব্যবহার করা শব্দ যুগল হচ্ছে হলুদ সাংবাদিকতা। সাংবাদিকতা করছেন কিন্তু হলুদ সাংবাদিকতা শব্দ যুগল কখনো শোনেননি এরকম কেউ আছেন বলে আমার মনে হয় না । পেশাগত কাজে না শুনলেও সাংবাদিকদের গালি গালাজ করার জন্য রাজনৈতিক নেতা বা উচ্চ পর্যায়ে কর্মকর্তারা অহরহ হলুদ সাংবাদিকতা শব্দটি ব্যবহার করছেন আর তাদের গালি গালাজ শুনতে শুনতে আমার বিশ্বাস প্রত্যেক সাংবাদিকের এ শব্দটি মুখস্থ হয়ে গেছে । কিন্তু হলুদ সাংবাদিকতা কি, কেনই বা সংবাদপত্রে পরিভাষার উদ্ভব হলো আর কেনইবা এতো রং থাকতে হলুদকেই বেছে নেয়া হলো এমন কিছু প্রশ্নের উত্তর নিয়েই আজকের পিভিএর আয়োজন। হলুদ সাংবাদিকতা কি উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ভিত্তিহীন রোমাঞ্চকর সংবাদ পরিবেশন বা উপস্থাপনকেই হলুদ সাংবাদিকতা বলে । এ ধরনের সাংবাদিকতায় তথ্যানুসন্ধান না করেই দৃষ্টি...

ব্রাজিল সমর্থকদের কমিটি গঠন, এক বৃটিশ চালাক ভদ্রলোক ও পিভিএ'র পথচলা ।।

এক বাংলাদেশী নামকরা ডাক্তার লন্ডনে চাকরি না পেয়ে মানবতার সেবা এবং সহজ সরলভাবে জীবিকা নির্বাহ করার জন্য তাবু টানিয়ে অস্থায়ী ক্লিনিক খুলে বসল। তাঁবুর বাইরে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে লিখে দিল 'GET TREATMENT FOR £20 - IF NOT CURED GET BACK £100 বিফলে মূল্য ফেরত! এ দেখে এক ব্রিটিশ চালাক লোক চিন্তা করল একই সাথে বোকা বাঙালীকে জব্দ করা এবং ১০০ পাউন্ড ধান্ধা করার এই সুযোগ। একে তো ব্রিটিশ, তার উপর অতি বুদ্ধিমান ভাবুন একবার! যথারীতি ভদ্রলোক গিয়ে ডাক্তারকে বলল- আমার জিহ্বায় কোন কিছুর স্বাদ পাইনা, আমি কোন স্বাদ পরখ করতে পারিনা আমার চিকিৎসা করুন। ডাক্তার বুঝতে পেরে তার এসিস্ট্যান্টকে হাঁক দিয়ে বলল- একে ৪২০ নম্বর বোতল থেকে তিন ফোটা খাইয়ে দাও। ঔষধ খাওয়ানোর পর ভদ্রলোক চেঁচিয়ে উঠল- এটা তো কেরোসিন! ডাক্তার: গুড, আপনার জিহ্বা কাজ করা শুরু করেছে, ২০ পাউন্ড দিন। ২০ পাউন্ড হারিয়ে অনেক ভেবেচিন্তে ভদ্রলোক দ্বিতীয় দিন আবার আসল ভদ্রলোক : আমার স্মৃতি কাজ করছেনা, আপনি আমার চিকিৎসা করুন।এসিস্ট্যান্টকে হাঁক দিয়ে বলল- একে ৪২০ নম্বর বোতল থেকে চার ফোটা খাইয়ে দাও। খাওয়ানোর পর ভদ্রলোক রেগেমেগে একাকার। ব...

বৈষ্ণব পদাবলী,ভন্ড মজিদ-কুবের ও একজন সুলতান আহমেদ

১৯৮৬ সন। আমি তখন বরগুনা সরকারী কলেজের ছাত্র। রাজনৈতিক কারনে বিকালে আমাদের আড্ডা ছিল বরগুনা বাজার রোডের আবদুল আলিম হিমু সম্পাদিত সাপ্তাহিক বরগুনা কন্ঠের বিপরিতে সাজুর চায়ের দোকানে। অধিকাংশ সময়ে আড্ডার মধ্যমনি ছিল জাসদ নেতা সালাম আলমাস চৌধুরী। এক সময়ে তিনি আমতলী কলেজের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। ৮৬ সনের জানুয়ারী কি ফ্রেব্রুয়ারী মাস,শীতের সন্ধ্যায় আমরা সাজুর চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছি। অপরিচিত এক ভদ্রলোক ডুকে সালাম দিয়ে আমাদের পাশের টেবিলে বসলেন। খুবই সাধারণ পোষাক পরিচ্ছেদ, হাতে একটি ডায়রী এবং বলার স্টাইল ও উচ্চারণ অনেকটাই স্থানীয় সাদা মাটা । প্রথম দেখায় খুব একটা ভাল না লাগলেও যখন শুনলাম তিনি বরগুনা আলীয়া মাদ্রাসায় বাংলা বিভাগের প্রভাষক এবং তার বাড়ি পটুয়াখালী সদর উপজেলার মরিচবুনিয়া ইউনিয়নে, তখন হঠাৎ করেই তার প্রতি একটা ভাললাগা তৈরী হয়ে গেল। এরপর মাঝেই মাঝেই তিনি আমাদের আড্ডায় আসতেন এবং দিনে দিনে তিনিও হয়ে উঠলেন আমাদের আড্ডার অন্যতম আকর্ষন। তার সহজ সরল বলার স্টাইল হাসতে হাসতে কঠিন কথা বলার কৌশল এবং সাহসীকতা আমাদেরকে খুব আকৃষ্ট করত। এরপর অনেক দিন তারসাথে আর যোগা...