সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বৈশাখী ঐতিহ্য ও আমতলীতে মঙ্গল শোভাযাত্রার ইতিহাস


মঙ্গল শোভাযাত্রা প্রতি বছর বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে আয়োজিত একটি তুলনামূলকভাবে নতুন বর্ষবরণ উৎসব। বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে বাংলাদেশের ঢাকা শহরে এটি প্রবর্তিত হয়। একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ উৎসব হিসাবে সারাদেশে এটি ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।
জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থা ইউনেস্কো বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আবেদনক্রমে ২০১৬ সনের ৩০শে নভেম্বর বাংলাদেশের ‘‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’’ কে বিশ্বের অগুরুত্বপূর্ণ অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ‌্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।
আমতলীতে মঙ্গল শোভাযাত্রার ইতিহাস খুব পুরানো নয়। যতটা মনে পরে বাংলা ১৩৯৯ সনের ২৬ কি ২৭ চৈত্র বিকালে স্বপন সিদ্দিকী, বাহাদুর খান এবং আমি ইউএনও অফিসের সামনে যতীন বাবুর
রেস্তোরায় আড্ডা দিচ্ছিলাম। তখন আমাদের সারাদিনের আড্ডাটা ছিল ওখানে এবং আমরা কয়েকজন যতীন বাবুর একরকম নিয়মিত কাস্টমার। আড্ডার এক পর্যায়ে বাহাদুর ভাই
আজি হতে শত বর্ষ পরে কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতা খানি বরীন্দ্রনাথের বিখ্যাত ১৪০০ সাল কবিতাটি আবৃত্তি শুরু করলে কবিতাটি নিয়ে অনেক আলোচনা হয়।
যেহেতু কয়েকদিন পরেই বাংলা ১৪০০ সাল এ উপলক্ষে কিছু করা যায় কিনা। আমরা খুবই Excited হয়ে চা খেয়েই অশোক মজুমদার, বিনয় দাস,ইফতেখার রসুল তপন,খায়রুল বাশার বুলবুল, দিপক দাস, মহিনসহ আরো অনেকের সাথে ঘুরে ঘুরে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হল আমরা ১৪০০ সাল ব্যতীক্রমভাবে উদযাপন করব। সিনেমা হলের(টাউন হল) সামনের যে ছাদ সেটা হবে আমাদের স্টেজ এবং রাত ১২-০১ মিনিটে মঙ্গল ঘন্টা (সঙ্খ ও বাশি বাজিয়ে) বর্ষবরণ করব এবং পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।সকালে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করব।
কিন্তু সমস্যা হল টাকা। অন্তত হাজার দুয়েক টাকা দরকার। এরকম সমস্যায় আমাদের ভরসার জায়গা হল মাহবুব উল আলম ঝুন্টু তালুকদার এবং জিএম দেলওয়ার হোসেন। ঝুন্টু তালুকদারকে আমাদের প্লান বলার সাথে সাথে সেও খুব Excited. জিএম ভাইকে সারাদিন খুজে পেলাম না। তখন মোবাইল ছিল না বলে যোগাযোগও এত সহজ ছিল না।
সন্ধ্যায় খুজে পেলাম পরান পালের কাপড়ের দোকানে। তাকে সব বললাম। তার সবচেয়ে ভাল একটা গুন ছিল নিজের পকেটে না থাকলেও এসব কাজে এর ওর পকেট থেকে টাকা ম্যানেজ করে দিতেন। টাকা পেয়ে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করলাম এবং রাত ১২ -০১ মিনিটে জমজমাট অনুষ্ঠান করলাম। দল মত নির্বিশেষে শত শত মানুষ সিনেমা হলের সামনে দাড়িয়ে উপরের দিকে তাকিয়ে ব্যতীক্রমী অনুষ্ঠান উপভোগ করেছেন।
পরের দিন সকালে আরো চমক অপেক্ষা করছিল। বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা। সিনেমা হলের সামনে থেকে শোভাযাত্রা শুরু হল।হঠাৎ বাহাদুর ভাইকে দেখলাম লুঙ্গির উপর একটা পাঞ্জাবী এবং টাই। মহিনসহ কয়েকজন টাই ধরে তাকে টানছে। হঠাৎ এই আইডিয়া শোভাযাত্রাকে আরো আকর্ষনীয় করে তুলল। আর এভাবেই রচিত হল আমতলীতে প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রার ইতিহাস।



অনেক পুরানো বিষয় নিয়ে লিখছি । স্মৃতি বিভ্রাট হওয়াটাই স্বাভাবিক। কোন কিছু বাদ গেলে সংযোজন করার অনুরোধ করছি। তবে আমতলীতে বৈশাখী মেলার ইতিহাস আরো উত্তেজনাকর। কালকে লিখব বৈশাখী মেলার ইতিহাস নিয়ে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

মামনির জন্মদিন: স্বপ্নের চেয়েও বড় হও।

১৯২৮ সন। পন্ডিত জহরলাল নেহেরু তখন এলাহবাদে। আর ১০ বছরের ইন্দিরা গান্ধী থাকেন হিমালয়ের কোলঘেসে মূসৌরী শহরে। যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম চিঠি। নেহেরু প্রায়ই মেয়েকে চিঠিতে প্রকৃতি, পৃথিবী ও মানব সভ্যতার বিকাশসহ ভারতের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে লিখতেন। ১৯২৯ সনের নভেম্বর মাসে এসব চিঠি নিয়ে মা-মনিকে-বাবা নামে একটি বই প্রকাশিত হলে তা ইতিহাসের অংশ হয়ে যায় । বর্তমানে এটি ভারতের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে এবং রেফারেন্স বুক হিসাবে পড়ানো হয়।কুটনৈ তিক ফারুক চৌধুরীর কুটনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে লেখা প্রিয় ফারজানাও আমাদের ভ্রমন সাহিত্য ও ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে। প্রত্যেক পিতাই দূরে থাকা সন্তানদের প্রতি কিছু পরামর্শ, কিছু নির্দেশনা দিয়ে থাকে। আগে চিঠি লিখত,এখন তার জায়গায় ইমেইল, মোবাইল বা সোশ্যাল মিডিয়া ।এজন্য নির্দেশনাটাও বেশী । এটা কর, ওটা কর না । সন্ধ্যার আগেই বাসায় বা হলে ফের। রাত কর না। রাজনীতিতে জড়িও না, কোটা সংস্কার আন্দোলন কিংবা নিরাপদ সড়কের আন্দোলনে যেও না। কারন অভিভাবকরা সব সময় সন্তানকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকে, মেয়ে হলে তো কথাই নেই । সন্তানরা হয়ত ভাবে, আমরা বড় হয়েছি এত ট...

সুবন্ধি বাধ: লাখো মানুষের মরণ ফাদ।।

সুবন্ধি বাধ চাওড়া, হলদিয়া,  আমতলী সদর ও আমতলী পৌরসভার প্রায় ৮০ হাজার মানুষের মরণ ফাদে পরিনত হয়েছে। আমরা যারা এ খালের দুপাড়ে বসবাস করি তারা জানি পানির প্রবাহ না থাকায় কচুরীপানা পচে পানি নষ্ট হয়ে গেছে।  কৃষি কাজে এ খালের পানি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থবির হয়ে গেছে। হলদিয়া গ্রামের  এক অংশ, চিলা ও চাওড়া চলাভাংগা গ্রামের কৃষকরা পরিবহন করতে না পারায় আউশ চাষ বন্ধ করে দিয়েছে। গৃহস্তালি কাজেও এ খালের পানি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এমনকি গবাদি পশুও এ খালের পানি পান করছে না। দুর্গন্ধে খালের পাশ দিয়ে হাটা যায় না। মশা ও সাপের  উপদ্রব এবং ঘরে ঘরে চর্ম রোগের প্রাদুর্ভাব জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকিতে রয়েছে। এ খালে মাছ ধরে প্রায় ৫শ মানুষ জীবিকা নির্বাহ করত তাদের জীবন জীবিকা আজ ঝুকির মুখে পরেছে। খালে পানির প্রবাহ না থাকলে এ সমস্যা সমাধান করা যাবে না আর পানির প্রবাহ নিশ্চিত করার একমাত্র উপায় সুবন্ধি বাধ কেটে দেয়া। কিন্ত একটি মহল গুটি কয়েক ব্যক্তির স্বার্থে ৮০ হাজার মানুষের জীবন জীবিকাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন,হীন স্বার্থে খাল কাটার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অথচ তারা ...

স্টিফেন হকিংস’র প্রেমিকা ও PVA এর সফলতা -ব্যর্থতার গল্প ।।

মাত্র ৩৮ ঘন্টা আগে পৃথিবীর সকল মায়া ত্যাগ করে চির বিদায় নিলেন বিখ্যাত পদার্থ বিজ্ঞানী A Brief History of Time বইয়ের লেখক Stephen William Hawking । ১৯৬৪ সন, হকিংস ক্যামব্রীজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। বোনের বান্ধবী Jane Wilde কে প্রথম দেখাতেই প্রেমে পরে গেলেন । একেই বলে Love at the first sight । আর কি প্রেম, একদম সরাসরি ইনগেজমেন্ট এবং ১৯৬৫ সনে বিয়ে । তখনই হকিংস এর শরীরে motor neurone disease ধীরে ধীরে বাড়ছে। স্ত্রীর ভালবাসা আর সেবা পেয়ে হকিংস শুধু সুস্থ্য হয়ে উঠলেন না নতুন উদ্যমে শুরু করলেন লেখাপড়া আর কাজ । মিডিয়ার সামনে বলেই ফেললেন Jane Wilde এর সাথে প্রণয়ই আমাকে কিছুটা বাচতে এবং দুনিয়াটা ঝাকুনি দিতে শিখিয়েছে । People's Voice of Amtali- PVA শুরুতেই একটি চ্যালেঞ্জের মুখে পরেছে। বরগুনা জেলা প্রশাসন, সাংবাদিক ও বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের প্রচেষ্টায় সমস্যা তুলে আনা, তাৎক্ষনিক সমস্যা সমাধান করে Citizen's Voice-Barguna শুধু জনপ্রিয়তাই অর্জন করেনি Citizen's Journalism এর ক্ষেত্রে একটি role model হয়ে উঠেছে । এটি PVA এর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কারন সবাই CVB এর মত PVA ...