সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

নরকের পাচীল,লাস্কির গণতন্ত্রের বৈচিত্র্য ও PVA'র স্বপ্ন


নাগরিক সাংবাদিকতাকে ভিত্তি করে আমতলীতে আরো কয়েকটি ফেসবুক গ্রুপ, অন লাইন পত্রিকা সক্রিয় হয়েছে। এটি আমাদের জন্য খুবই আনন্দের সংবাদ। প্রথমত এতে আমতলীর সমস্যা সম্ভাবনার সংবাদ অনেক বেশী প্রকাশিত হবে। দ্বিতীয়ত, একটা সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে গুনগত মান বাড়বে। তবে আমার ভাল লাগার বড় আরেকটি কারন হচ্ছে, যারা এতদিন নাগরিক সাংবাদিকতাকে নাক ছিটকাতো তারা নাগরিক সাংবাদিকতায় যুক্ত হচ্ছে, নাগরিক সাংবাদিকদের Promote করতে এগিয়ে আসছে। বাংলাদেশে শুরু থেকে আমরা যারা নাগরিক সাংবাদিকতাকে সমর্থন করছি, নাগরিক সাংবাদিতার মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যা তুলে ধরে সমাধানে উদ্যোগী ভুমিকা পালন করছি, এটি কেবল তাদের কয়েকজনের বিজয় নয়, আরব বসন্ত পরবর্তি নাগরিক সাংবাদিকতা বনাম মুলধারার সাংবাদিকতার মধ্যে যে আদর্শগত বিরোধ তার একটি ক্ষুদ্র বিজয়। হ্যারল্ড লাস্কির ভাষায় গণতন্ত্রের সৌন্দর্যই হচ্ছে বৈচিত্র্য। সুতরাং শত ফুল ফুটতে দিন। 

একবার নরকের সুপারভাইজার নরকের সার্বিক অবস্থা পরিদর্শনে গিয়ে দেখেন সব কিছুই ভালভাবেই চলছে। প্রত্যেকটি নরক উচু পাচীল দিয়ে ঘেরা এবং মূল ফটকে গার্ড ভালভাবে দায়িত্ব পালন করছে। কিন্তু একটি নরকে কোন পাচীল নেই এবং মূল ফটকে কোন গার্ডও নেই। নরকের সুপারভাইজার খুবই অবাক হলেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকতাকে জিজ্ঞাসা করলেন এখানে পাচীল এবং গার্ড নেই কেন। নরকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকতা হাসতে হাসতে জবাব দিলেন স্যার এখানে সকল বাঙ্গালীদের বসবাস। তারা একজন পাচীল টপকিয়ে বা গেট পেড়িয়ে পালিয়ে যেতে চাইলেও অন্যরা পা টেনে ধরে। পলাশীর প্রান্তর আর ১৫ আগস্টের দিকে তাকালেই তা স্পষ্ট । আপনি ভাল কিছু করবেন কিংবা সামনে এগিয়ে যাবেন আপনাকে সহযোগিতা না করে পিছন থেকে টেনে ধরা বাঙ্গালীদের সহজাত চরিত্র। আমতলীর ক্ষেত্রেও এর ব্যতীক্রম নয়। ব্যক্তিগত স্বার্থে দল মত নির্বিশেষে সবাই একাট্টা হলেও ভাল কিছু দেখলে সেটি ধংস করার একটা অশুভ পায়তারা অধিকাংশের মধ্যে লক্ষনীয়। ভাল কাজে, নাগরিক সমস্যা সমাধানে শুধু বিভাজনই নয় পারলে পিছন থেকে টেনে ধরে।

এ অবস্থায় পিভিএ’র জন্য Message হচ্ছে এ সব ধরণের নেচিবাচক ধ্যান -ধারণা, চিন্তা- চেতনা ও সমালোচনাকে পিছে ফেলে নিজেদের আরো দক্ষ করা, Multi dimensional activities শুরু করা এবং আরো বেশী বেশী নাগরিক সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান করার জন্য কার্যকর এ্যাডভোকেসী করা । বিভাজন নয়,বিভেদ নয়, স্থানীয় সমস্যা সমাধানে কার্য়রত সকল পক্ষকে সাথে নিয়ে একটি অভিন্ন প্লাটফর্ম তৈরী করাই হতে পারে পিভিএ'র আরেকটি স্বপ্ন।
সর্বশেষে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালাম এর ভাষায় ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে যা দেখছি তা স্বপ্ন নয়, স্বপ্ন সেটাই যেটা আমাদের ঘুমাতে দেয় না। আসুন সকল প্রতিকূল পরিবেশ অতিক্রম করে স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা আরো উদ্যোগী হই।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

হলুদ সাংবাদিকতা , যোশেফ পুলিৎজার এবং আমেরিকা-স্পেন যুদ্ধ

গত কয়েকদিন ধরে পিভিএতে সাংবাদিকতা, নাগরিক সাংবাদিকতা নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে। গ্রুপ সদস্যরাও অলোচনায় অংশগ্রহণ করছেন এবং অম্ল-মধূর বাক্য ব্যয় করছেন। কারো কারো আলোচনায় মনে হয় সাংবাদিকরাই নাটের গুরু। ভাবখানা এরকম-যত দোষ নন্দ ঘোষ। আর সাংবাদিকদের গালি দেয়ার জন্য এ যাবত সবচেয়ে বেশী ব্যবহার করা শব্দ যুগল হচ্ছে হলুদ সাংবাদিকতা। সাংবাদিকতা করছেন কিন্তু হলুদ সাংবাদিকতা শব্দ যুগল কখনো শোনেননি এরকম কেউ আছেন বলে আমার মনে হয় না । পেশাগত কাজে না শুনলেও সাংবাদিকদের গালি গালাজ করার জন্য রাজনৈতিক নেতা বা উচ্চ পর্যায়ে কর্মকর্তারা অহরহ হলুদ সাংবাদিকতা শব্দটি ব্যবহার করছেন আর তাদের গালি গালাজ শুনতে শুনতে আমার বিশ্বাস প্রত্যেক সাংবাদিকের এ শব্দটি মুখস্থ হয়ে গেছে । কিন্তু হলুদ সাংবাদিকতা কি, কেনই বা সংবাদপত্রে পরিভাষার উদ্ভব হলো আর কেনইবা এতো রং থাকতে হলুদকেই বেছে নেয়া হলো এমন কিছু প্রশ্নের উত্তর নিয়েই আজকের পিভিএর আয়োজন। হলুদ সাংবাদিকতা কি উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ভিত্তিহীন রোমাঞ্চকর সংবাদ পরিবেশন বা উপস্থাপনকেই হলুদ সাংবাদিকতা বলে । এ ধরনের সাংবাদিকতায় তথ্যানুসন্ধান না করেই দৃষ্টি...
অবশেষে অমল তার বেদখল হওয়া ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান ফিরে পেয়েছে। সকাল থেকে বেদখল হওয়া ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান উদ্ধারের দাবীতে পরিবার পরিজন নিয়ে অমল আমরণ অনশন করছিল। অনশনের সংবাদ শুনেই ছুটে আসেন আমতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জি,এম দেলওয়ার হোসেন  পৌরসভার মেয়র মতিয়ার রহমান ও আমতলী সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোতাহার মৃধাসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ।তারা অমলের ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠানের দখল বুঝিয়ে দিয়ে অনশন ভংগ করান। এজন্য আমরা তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই,কৃতজ্ঞতা জানাই মিডিয়া,আমতলীর ব্যবসায়ী, সচেতন নাগরিক ও যুব সমাজসহ কাছের এবং দূরের ফেসবুক বন্ধুদের যারা অমলের ন্যায় সঙ্গত আন্দোলনে সামীল হয়েছেন একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।

আপনার একদিনের চা/ সিগারেটের পয়সাই আমতলী সরকারী কলেজের ছাত্র শাহীনকে অন্ধত্ব থেকে বাচাতে পারে।

আমতলী সরকারী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র শাহীন। তার দু’টি চোখের মনি লম্বা হয়ে গেছে। জরুরী ভিত্তিতে তার চোখের অপারেশন না করালে চিরদিনের মত চোখের দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে ফেলবে । তার দু’টি চোখের চিকিৎসার জন্য ২ লক্ষ টাকা প্রয়োজন। দরিদ্র পিতা মাছ বিক্রেতা শাহজাহান মিয়ার পক্ষে তার চিকিৎসা করানো সম্ভব না, প্রয়োজন ধণাঢ্য, মহানুভব, দানশীল ব্যক্তিবর্গসহ সর্বস্তরের মানুষের সাহায্য সহযোগিতা। আপনার একদিনের চা /সিগারেটের পয়সাই পারে শাহীনকে চির অন্ধত্ব থেকে বাচাতে। আসনু মানবিক কারনে আমরা সবাই শাহীনের পাশে দাড়াই ।